গত বছর রথযাত্রায় পুরীর গুণ্ডিচা মন্দিরের কাছে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনার পরে এ বার কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ ওড়িশা সরকার। তাই শহর জুড়ে তৈরি করা হয়েছে ২৬টি সেফ জ়োন, ৩০টি পার্কিংয়ের এলাকা, বিশেষ ইভাকুয়েশন করিডর এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য একাধিক কন্ট্রোল পয়েন্ট। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন অন্তত ১২ হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী। ইতিমধ্যেই সন্ত্রাসবিরোধী মক ড্রিল সম্পন্ন হয়েছে। ড্রোন-নজরদারি, এআই-ভিত্তিক সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ, কুইক রেসপন্স টিম, বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড এবং বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণে কোনও সমস্যা না হয়।
অন্য দিকে, প্রতিবেশী রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশে সাম্প্রতিক কোভিড-সংক্রান্ত মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে ওড়িশা সরকার রথযাত্রার আগে স্বাস্থ্য নজরদারি বাড়িয়েছে। ভক্তদের মাস্ক ব্যবহার, হাত পরিষ্কার রাখা এবং অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া নিয়েও সতর্কতাও জারি করেছে মৌসম ভবন। জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা ও বঙ্গোপসাগরে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পুরীতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পুরীতে ১৪৪ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রথযাত্রার দিনও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। রথযাত্রার আগের দিন থেকেই পুরী ও আশপাশের একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় জল জমার ছবি দেখা যায়। তবে, বৃষ্টির মধ্যেও রথযাত্রার প্রস্তুতিতে খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন।