ঝাড়খণ্ডে ছাত্রবিক্ষোভের মধ্যেই সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেএমএম-প্রধান হেমন্ত সোরেনকে চিঠি লিখলেন রাহুল গাঁধী। চিঠিতে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের দাবিদাওয়াকে ‘ন্যায়সঙ্গত’ বলে জানিয়েছেন রাহুল। একই সঙ্গে কেন্দ্রে এবং রাজ্যে জোটশরিক হেমন্তকে কংগ্রেস নেতার পরামর্শ, “প্রতিবাদী পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিজে কথা বলুন।”
ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ লাগাতার আন্দোলন চলছে ছাত্র-যুবদের। রবিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধীর কুশপুতল দাহ করা হয় রাঁচীতে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জেএমএম-কংগ্রেস জোট সরকার তাদের দাবিগুলির প্রেক্ষিতে কোনও সুস্পষ্ট পদক্ষেপ করছে না। এ অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে হেমন্তের ইস্তফার দাবি তুলছেন তাঁরা। আগামী বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। অন্য দিকে, যন্তর মন্তরের ছাত্রবিক্ষোভ নিয়ে সরব হলেও ঝাড়খণ্ডের ঘটনায় রাহুল কেন চুপ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি এবং এনডিএ-র অন্য দলগুলি। এই আবহে রাহুলের এই চিঠিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
চিঠিতে রাহুল আরও লিখেছেন, “ভারতের সংবিধান শান্তপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার দিয়েছে। কংগ্রেসও তাতে বিশ্বাস রাখে। আমরা তাই শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের প্রতিবাদকে সমর্থন করছি।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “আমাদের এ-ও বিশ্বাস যে, বিজেপি আর আরএসএস দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে শোষণের হাতিয়ার করে তুলেছে। এটা আর জ্ঞান আহরণের ব্যবস্থা নেই।”
চিঠির এক অংশে ঝাড়খণ্ডের ছাত্রবিক্ষোভ নিয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন রাহুল। তিনি লেখেন, “রাজ্যের নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ডের পড়ুয়ারা প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ আর তাঁদের দাবি ন্যায়সঙ্গত।” তার পরেই আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সঙ্গে হেমন্তকে কথা বলার পরামর্শ দিয়ে হেমন্ত লেখেন, “যুবসম্প্রদায় দেশের ভবিষ্যৎ। আমরা এই সঙ্কটকালে তাদের সমর্থন করছি। অনুগ্রহ করে তাদের কথা শুনুন এবং সমস্যার সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ করুন।”
সোমবার ২৪তম দিনে পড়ল ঝাড়খণ্ডের ছাত্রবিক্ষোভ। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। তবে জট কাটেনি। আন্দোলনকারীদের মূল দাবিগুলি ঘিরে জটিলতা কাটেনি এখনও। এখনও অমীমাংসিতও রয়ে গিয়েছে তাঁদের মূল দাবিগুলি— সিবিআই তদন্ত এবং জেপিএসসি পরীক্ষা বাতিল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবারই কংগ্রেসের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন আন্দোলনকারী ছাত্র-যুবরা। তাঁদের দাবি, ঝাড়খণ্ডের শাসকজোট থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করুক কংগ্রেস।
এই অবস্থায় রবিবার সন্ধ্যায় আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বৃদ্ধি করেন প্রতিবাদীরা। রাঁচী-সহ ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় দাহ করা হয় মুখ্যমন্ত্রী হেমন্তের কুশপুতুল। তাঁর জোটসঙ্গী কংগ্রেসের রাহুল এবং আরজেডির তেজস্বী যাদবেরও কুশপুতল দাহ করেন আন্দোলনকারীরা।