দিনের অধিকাংশ সময় মোবাইলের পর্দার সামনে কাটানোর প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে পড়়ুয়াদের মধ্যে। তাই শিক্ষক দিবসের আগের সন্ধ্যায় পড়ুয়াদের ‘স্ক্রিন টাইম’ কমানোর প্রশ্নে শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকার পক্ষে সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গত কাল জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সঙ্গে নিজের বাসভবনে দেখা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষকদের সঙ্গে জনসচেতনতা, শিশুদের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ও আধুনিক সময়ের নানা সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। যা পরে নিজের সামাজিক মাধ্যমের হ্যান্ডলে দেশবাসীর সঙ্গে ভাগ করে নেন তিনি।
বর্তমান প্রজন্মের মোবাইল ও ‘স্ক্রিন’ ব্যবহারের আসক্তি ক্রমশ বেড়ে যাওয়া নিয়ে আজ উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পর্দার দিকে তাকিয়ে সময় কাটানো শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এক ধরনের আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। যা খুবই উদ্বেগের। তিনি শিক্ষকদের পরামর্শ দেন যেন তাঁরা অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানেন পড়ুয়ারা কতটা সময় পর্দার সামনে কাটাচ্ছে ও তারা গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে কি না। খেলা, শারীরচর্চা এবং সৃজনশীল কাজের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির মাধ্যমে পড়ুয়াদের ধীরে ধীরে অতিরিক্ত ‘স্ক্রিন’ ব্যবহারের অভ্যাস থেকে বার করে আনার উপরে জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন যে তিনি খেলা বলতে ভিডিয়ো গেমের কথা বলছেন না, বরং মাঠে গিয়ে শারীরচর্চার উপরে জোর দিচ্ছেন। তাঁর মতে, কোনও পড়ুয়া যদি খেলার প্রতি গভীর ভাবে আকৃষ্ট হতে পারে, তা হলে ধীরে ধীরে ‘স্ক্রিন’ নির্ভরতা কমানো সম্ভবহতে পারে।
একই সঙ্গে পড়ুয়াদের বইয়ের গণ্ডির বাইরে গিয়ে পড়াশোনার উপরে জোর দেন মোদী। মোদী বলেন, শিক্ষকদের দায়িত্ব কেবলমাত্র বই ও পাঠ্যসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। পড়ুয়াদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া এবং বাস্তব জীবনে দক্ষতা ও কাজের বিভিন্ন ধারার সঙ্গে তাদের যুক্ত করার উপরে জোর দিয়েছেন মোদী। পাশাপাশি মোদী পড়ুয়াদের শিক্ষাগত ফলাফলের পাশাপাশি তাদের আচরণের দিকেও খেয়াল রাখার উপরে জোর দেন। তিনি বলেন, যৌথ পরিবার ক্রমশ ভেঙে যাওয়ায় শিশুদের জীবনে শিক্ষকদের ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
অন্য দিকে শিক্ষক দিবসেরবার্তায় সমান সুযোগ-সুবিধে-সহ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উপরে জোর দিয়েছেন রাহুল গান্ধী।আজ শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সমাজমাধ্যমে একটি বার্তায় রাহুল গান্ধী শিক্ষকদের এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উপরে জোর দিতে বলেছেন যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী সমান সুযোগ ও উচ্চমানের শিক্ষা পেতে সক্ষম হবেন।
পাশাপাশি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, ‘‘বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা আমাদের সামনে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাই আমাদের সম্মিলিত ভাবে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী সমান সুযোগ ও উচ্চমানের শিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ পেতে সক্ষম হয়।’’