বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, প্রশ্ন ফাঁস, দিল্লিতে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ, ছাত্রাবাস ধসে পড়া— নিজের ৭৬ বছরের জন্মদিনের আগে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সামনে। এই ছবি বদলাতে মরিয়া বিজেপি। তাই মোদীর এ বারের জন্মদিন ও প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে ২৫ বছর পূর্তির মতো অনুষ্ঠানকে হাতিয়ার করে তাঁর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের পাশাপাশিই, বিক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্মের বড় অংশকে ফের কাছে টানতে এক মাস ধরে বিজেপি নানাবিধ কর্মসূচি নিয়েছে।
বিজেপির জাতীয় সভাপতি হওয়ার পরে আজ প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে নিতিন নবীন সবিস্তার জানান, কী ভাবে দল তরুণদের মন জিততে চাইছে। ১৭ সেপ্টেম্বর মোদীর জন্মদিন। মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী পদ মিলিয়ে প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তাঁর ২৫ বছর পূর্ণ হবে ৭ অক্টোবর। নিতিন বলেন, ‘‘ওই দু’টি বিষয়কে মাথায় রেখে এ মাসের ১৭ তারিখ থেকে এক মাসব্যাপী ‘সেবা সঙ্কল্প অভিযান’-এর ডাক দেওয়া হয়েছে। একাধিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনতার যোগদান নিশ্চিত করার ও যুব সমাজের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করবে দল।’’
১৭ তারিখে প্রত্যেক বুথ ছাড়াও দেশ জুড়ে যাঁরা সরকারি যোজনার সুফল পেয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের ঘরে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ জ্বালাতে চায় বিজেপি। মোদীর প্রশাসন কী ভাবে অনেকের জীবন বদলে দিয়েছে, তা নিয়ে দেশ জুড়ে পথনাটক করবেন দলের যুব কর্মীরা। ৭ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘সেবা জ্যোতি কলস’ যাত্রা হবে। প্রতিটি জেলার সদর দফতরে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’ গঠনের সঙ্কল্প নেওয়া হবে। তাতে স্থানীয় তরুণদেরও উৎসাহ দেওয়া হবে। বরোদা থেকে বারাণসী রুটে উভমুখী বাইক শোভাযাত্রা করে সেই যাত্রাপথের বিভিন্ন গ্রাম-শহরে সরকারের সাফল্য তুলে ধরা হবে। এতেও অংশ নেবেন তরুণ সমর্থকেরা। মূলত তরুণ প্রজন্মকে পাশে নিয়ে ‘সেবার মাধ্যমে যোগদান’ কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। রক্তদান, বৃক্ষরোপণ, প্লাস্টিক-মুক্ত পরিবেশ, অঙ্গদানের অঙ্গীকারের মতো ২৫টি সেবায় অংশ নিতে উৎসাহ দেওয়া হবে তরুণদের।
প্রশ্ন ফাঁসে ক্ষুব্ধ যুব সমাজের কথা শুনতে ‘ছাত্রো কি গুঞ্জ’ কর্মসূচি নিয়েছেন রাহুল গান্ধী। আজ পাল্টা নিতিন বলেন, ‘‘যাঁরা যুব সমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছেন, তাঁদের সত্যিই যুব সমাজের জন্য কিছু ভাল করার থাকলে তাঁরা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখনই করতে পারতেন। এই গুঞ্জ-এর লক্ষ্য, দলীয় (কংগ্রেস) কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করা। এতে পড়ুয়াদের কোনও লাভ নেই।’’ কংগ্রেসের বন্দে মাতরম্-এর দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করে নিতিন বলেন, ‘‘এতে অরাজক ও দেশবিরোধী মানসিকতাই স্পষ্ট। কংগ্রেসের ওই সিদ্ধান্ত স্বাধীনতাসংগ্রামীদের অপমান।’’