নিটের প্রশ্ন ফাঁসের জেরে যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ নরেন্দ্র মোদী সরকারকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। তাই আজ আমলা নিয়োগের দায়িত্বে থাকা ইউপিএসসি-র ১০০ বছর পূর্তিতে, পরীক্ষা নেওয়ার প্রশ্নে দীর্ঘসূত্রিতা বিষয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘‘পরীক্ষা আয়োজনে বিলম্ব বড় সংকট তৈরি করতে পারে।’’
প্রশ্ন ফাঁসের কারণে ৩ মে-র নিট বাতিল হয়। প্রায় সাড়ে ছ’সপ্তাহ পরে ফের পরীক্ষা হয়। আন্দোলনে নামে ছাত্র সমাজ। যার জেরে পদত্যাগ করতে হয় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। আজ ইউপিএসসি-র ওই অনুষ্ঠানে প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কিছু না বললেও, পরীক্ষা নেওয়ায় বিলম্ব নিয়ে সরব হন মোদী। যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের পরে মোদীর লক্ষ্য, যুব সমাজের আস্থা ফিরে পাওয়া। নিয়োগকারী সংস্থাগুলিতে সংস্কারের সওয়াল করে মোদী বলেন, ‘‘পরীক্ষাকে শুধুমাত্র পরীক্ষা বা একটি ‘ইভেন্ট’ হিসেবে দেখলে চলবে না। এক জন পড়ুয়াকে কোচিং, থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করতে হয়। পরীক্ষা নেওয়ায় দেরির অর্থ হল ওই পড়ুয়ার পরিবারের উপর আর্থিক চাপ বেড়ে যাওয়া।’’ তাই ইউপিএসসি ও দেশের অন্য নিয়োগকারী সংস্থাকে সময়ের মধ্যে, এমনকি সম্ভব হলে সময়ের আগে তা সেরে ফেলা যায় কি না তা খতিয়ে দেখতে বলেন মোদী।
এ দিকে, কংগ্রেসশাসিত কর্নাটকে চাকরির পরীক্ষায় কেলেঙ্কারি নিয়ে রাহুল গান্ধী কেন চুপ, সেই প্রশ্ন তোলেন বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র। তাঁর কথায়,‘‘লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কর্নাটকের ভেটেরেনারি শাখার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল। তা নিয়ে রাহুল নীরব কেন? কেন বেছে বেছে কেন্দ্র ও বিজেপি শাসিত রাজ্যে পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সরব হন তিনি?’’
ভারত মণ্ডপমে ইউপিএসসি-র ১০০ বছর উপলক্ষে প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন মোদী। ওই প্রদর্শনীতে ১৯২০ সালে সুভাষচন্দ্র বসুর তৎকালীন ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দেওয়ার উল্লেখ আছে। মোদী বলেন, ‘‘সে সময়ে ব্রিটিশ জমানা হলেও, সুভাষচন্দ্র বসু সংস্কৃতকে বিষয় হিসেবে বেছে নিয়ে ওই ভাষাতেই উত্তর লিখেছিলেন।’’ এ প্রসঙ্গে ইতিহাসবিদ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুগত বসু বলেন, ‘‘সুভাষচন্দ্র সংস্কৃত খুবই ভাল জানতেন। তবে আইসিএস পরীক্ষায় তাঁকে সংস্কৃত থেকে ইংরেজিতে তর্জমা করতে হয়েছিল। সেটা আবার খসড়া কাগজে ভাষান্তরের পরে তিনি মূল উত্তরপত্রে লিখতে ভুলে যান।’’ সুগত জানাচ্ছেন, সংস্কৃত ছাড়া আরও ৮ বিষয়ে পরীক্ষা দেন সুভাষ। ইংলিশ কম্পোজ়িশনে সর্বোচ্চ নম্বর পান। ইতিহাস, দর্শন, পলিটিক্যাল ইকনমিতে ভাল নম্বর পেয়েই চতুর্থ স্থান পেয়েছিলেন।