ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটের শিক্ষকদের পুরোপুরি অন্ধকারে রেখেই সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনে নতুন বিল আসছে বলে সরব হলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যাপক, গবেষক, ছাত্রেরা। শুক্রবার আইএসআই-এর একটি অনুষ্ঠানে নীতি আয়োগের ভাইস-চেয়ারম্যান অশোক লাহিড়ীকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন তাঁরা। আইএসআই-এর শিক্ষকদের অভিযোগ, আইএসআই-এ সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিকর্তা অমর্ত্যকুমার দত্তকে পর্যন্ত প্রস্তাবিত বিলটির বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে আমল না-দিয়ে এই বিল আইএসআই-এর সদর কলকাতা থেকে সরাতে পারে বলে আশঙ্কা দানা বাঁধছে। সেই সঙ্গে শিক্ষক সমাজের গুরুত্ব খর্ব করে কেন্দ্রের আমলা নিয়ন্ত্রিত একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চেষ্টা চলছেবলে অভিযোগ।
শনিবার কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক অরিজিৎ বিষ্ণু বলেন, “সংসদে আনার আগে বিলটির চূড়ান্ত চেহারা ঠিক করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আইএসআই-এর সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কারও মতামত নেওয়াই হয়নি।” অরিজিৎ ছাড়া আইএসআই-এর সদ্য প্রাক্তন অধিকর্তা অয়নেন্দ্রনাথ বসু, কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক কুন্তল ঘোষ, অঙ্কের অধ্যাপিকা পারমিতা দাস, আইএসআই ওয়ার্কার্স অর্গানাইজ়েশনের প্রেসিডেন্ট পার্থপ্রতিম মোহান্ত, আইএসআই প্রাক্তনী সংগঠনের অন্যতম মুখ শশীমোহন শ্রীবাস্তবেরা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশের ঐতিহ্যের প্রতিষ্ঠানে জওহরলাল নেহরুর আমলের পুরনো আইন পাল্টে আইএসআই-এর খোলনলচে বদলে আইআইটি, আইআইএম ধাঁচে গড়তে চায় কেন্দ্র। তাতে মৌলিক গবেষণা এবং গরিব মেধাবীদের অন্তর্ভুক্তিতে সমস্যা হতে পারে বলে শঙ্কা। পারমিতা বলেন,“আইএসআই বিলের এই চেহারা অপ্রত্যাশিত। তাতে শিক্ষক সমাজ এবং অধিকর্তার ডানা ছাঁটা হচ্ছে বলে বোঝাই যাচ্ছে। সরকারি আমলা নির্ভর নতুন ব্যবস্থায় পঠনপাঠন, গবেষণার স্বার্থ ঠিকঠাক রক্ষা নিয়েওসংশয় রয়েছে।”