ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়াল স্পেশাল এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (এসইএম) আদালত। একটি বেনামি ওয়টস্যাপ বার্তা এবং ধৃতদের সমাজমাধ্যম বার্তার উল্লেখ করে আজ পুলিশের তরফে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, ওই দু’জনকে ছাড়লে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। এ দিকে, আজই দিল্লি পুলিশের দেওয়া ১০ হাজার টাকার পিস বন্ডের নোটিসের বিরুদ্ধে আইসা-র সভাপতি নেহা বোরা দিল্লি হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়েছেন।
এসআইআর-এর নাম করে কোটি কোটি ভোটারের নাম কেটে দেওয়া এবং ‘ভোট চুরি’-র মতো অভিযোগে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন চলছে দেশ জুড়ে। তার মধ্যেই, গত ১২ অক্টোবর দিল্লিতে আন্দোলন বা বিক্ষোভের অনুমোদিত জায়গা হিসেবে যন্তর মন্তরের স্বীকৃতি প্রত্যাহার করেছে সরকার। তার পরের দিনই সেখানে ঢুকে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করায় ‘আইনভঙ্গে’র অভিযোগে আটক হন সিজেপি নেতা আশুতোষ ও সৌরভ। ১৪ অক্টোবর থেকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে আছেন তাঁরা। রবিবার শুনানিতে স্পেশাল এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হুমকি ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ তুললে বিষয়টির সুরাহা হয়নি এবং পুলিশ পৃথক এফআইআররুজু করেছে।
আজ মন্দির মার্গ থানায় ফের শুনানির সময়ে পুলিশের দাবি মেনে আশুতোষ ও সৌরভের বিচার বিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানোর নির্দেশ দেন এসইএম ঋতু রাজ। সিজেপির আইনজীবীদের দাবি, সৌরভ বা আশুতোষের বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর নেই, নিবারণমূলক আটক করা হয়েছে তাঁদের। এর আগে চার জন জামিনদারকে বাতিল করা হয়েছিল। এ দিন আরও দু’জন জামিনদারকে বাতিল করেন এসইএম। সিজেপির আইনজীবীদের দাবি, ছবির তুলনায় বর্তমানে চুল ছোট থাকায় এক জামিনদারকে বাতিল করা হয়েছে! সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংহ এই বিচার প্রক্রিয়াকে ‘সার্কাস’ বলে অভিহিত করেছেন।
অন্য দিকে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মান্ডি হাউসের বিক্ষোভ থেকে বাম ছাত্রনেত্রী নেহা আটক হওয়ার পরে শনিবার সকালে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা এবং ১০ হাজার টাকা জামানত চেয়ে তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছে পুলিশ। পুজোর ছুটির মধ্যেই নেহার আইনি দল এই নির্দেশ বাতিলের আর্জি নিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছে। এ দিকে মুম্বইয়ে ‘জ্ঞানেশ-তাড়াও’ কর্মসূচিতে যথেচ্ছ আটক করার অভিযোগ নিয়ে মামলায় মহারাষ্ট্র সরকারের কাছে হলফনামা চেয়েছে বম্বে হাই কোর্ট। প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠী ও বিচারপতি অদ্বৈত সেথনার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, প্রতিটি নাগরিকের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মৌলিক অধিকার রয়েছে। অন্যায় ভাবে আটক করার প্রমাণ মিললে বিচার বিভাগ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।
এর মধ্যেই আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়োর আসন্ন ভারত সফরের মুখে তাঁকে চিঠি দিয়েছেন প্রমীলা জয়পাল, ইলহান ওমর-সহ আমেরিকান কংগ্রেসের ছ’জন প্রতিনিধি। ভারতে আন্দোলনকারীদের উপরে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, গণ-আটক এবং ইন্টারনেট বন্ধ নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে তাঁদের অভিযোগ, এই আন্দোলনে সংহতি জানানো প্রবাসী ভারতীয়দের উপরে ওয়াশিংটন, শিকাগো ও সান ফ্রান্সিসকোয় নজরদারি চালাচ্ছে ভারতীয় দূতাবাস। আমেরিকার অস্ত্র রফতানি নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ৬ অনুযায়ী ভারতের কাছে অস্ত্র বিক্রি স্থগিত করা বা পরিস্থিতি পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।