সিকিমের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দুষ্যন্তকুমার গৌতমের শপথ গ্রহণের আগেই গ্যাংটকে শুরু হয়েছে নাগরিক প্রতিবাদ। উত্তরাখণ্ডের অঙ্কিতা ভন্ডারি হত্যা মামলায় প্রভাবশালী হিসেবে ওই বিজেপি নেতার নাম ওঠাকে কেন্দ্র সরে সরব স্থানীয় বাসিন্দা ও পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, এই মামলায় সিবিআই-তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর শপথ নেওয়া স্থগিত রাখা হোক। তবে সিবিআই বা আগে তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) চার্জশিটে দুষ্যন্তের নাম নেই। সমস্ত অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে মানহানির অভিযোগে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ করেছেন তিনি।
গত ১২ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে সিকিমের বিদায়ী রাজ্যপাল ওমপ্রকাশ মাথুরের জায়গায় দুষ্যন্তের নাম ঘোষণা করা হয়। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামিকাল, সোমবার গ্যাংটকের লোকভবনে সিকিম হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে শপথ নেওয়ার কথা তাঁর। সেই উপলক্ষে আজ, রবিবার দুষ্যন্ত বারতুক হেলিপ্যাডে পৌঁছলে অভ্যর্থনা জানান মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিংহ তামাং। সিকিম সশস্ত্র পুলিশের তরফে গার্ড অব অনার দেওয়া হয় তাঁকে। এ দিকে, গ্যাংটকের জেলা প্রশাসনিক কেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়েছিলেন অনেক সাধারণ নাগরিক ও স্থানীয় পড়ুয়ারা। কোনও রাজনৈতিক দলের পতাকা ছাড়া সম্পূর্ণ নাগরিক উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের তরফে সি এল ছেত্রী ও আয়োজক অঞ্জলি জানান, তাঁরা কাউকে আগাম দোষী সাব্যস্ত করছেন না। তবে সাংবিধানিক পদের মর্যাদা রক্ষার্থে সিবিআই তদন্তের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শপথ গ্রহণ পিছিয়ে দেওয়া উচিত। এর আগে, গত ১৫ অক্টোবর সিকিম ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনও (সুসা) একটি বিবৃতি দিয়ে এই নিয়োগ পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছে। একই বক্তব্য রাজ্য কংগ্রেসেরও।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে উত্তরাখণ্ডের হৃষীকেশের কাছে একটি রিসর্টে খুন হন ১৯ বছর বয়সি রিসেপশনিস্ট অঙ্কিতা। এই ঘটনায় রিসর্টের মালিক, বহিষ্কৃত বিজেপি নেতার ছেলে পুলকিত আর্য-সহ তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। কিন্তু মামলার শুরু থেকেই রিসর্টে উপস্থিত এক প্রভাবশালী ‘ভিআইপি’ অতিথিকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে এক প্রাক্তন বিজেপি বিধায়কের সহযোগীর অডিয়ো ক্লিপ ঘিরে দুষ্যন্তের নাম আলোচনায় উঠে আসে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই প্রভাবশালী যোগের তদন্তভার পায় সিবিআই। নিহত তরুণীর পরিবার দিল্লিতে সিবিআই কর্তাদের সঙ্গে দেখা করে অজয় কুমার এবং দুষ্যন্তের ২০২২ সালের ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বরের কল রেকর্ড ও লোকেশনের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।