এ পুজো বরাবরই নতুনের পথিকৃৎ। থিম পুজোর চমক থেকে শুরু করে রেকর্ড উচ্চতার দুর্গাপ্রতিমা— এমন অনেক পালক মুকুটে গোঁজা গুয়াহাটির বিষ্ণুপুর সর্বজনীন পুজো কমিটি এ বার ফের নয়া পথের দিশারী। অসমে এই প্রথম কোনও পুজো দেখার ‘পাস’ বিক্রি শুরু হয়েছে একটি জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টালে। সাধারণত কোনও সিনেমা, নাটক বা সঙ্গীতানুষ্ঠানের টিকিট কাটা যায় সেখান থেকে। কলকাতার পুজো পরিক্রমা বা মুম্বইতে আরতি দেখার জন্যও এই পোর্টালে টিকিট কাটার ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কোনও একটি সর্বজনীন পুজো কমিটির এ ভাবে পাস বিক্রি করার ঘটনা বেনজির, অসমে তো বটেই। এ নিয়ে সাড়া যেমন পড়েছে, তেমনই সমালোচনাও হচ্ছে।
৭৬ বছরের পুজোয় এ বারের থিম ‘নাগলোক’। বিষ্ণুপুর বিদ্যানিকেতন হাই স্কুল মাঠে বরাবরের বড় বাজেট ও বিশাল পরিসর নিয়ে কাজ করা বিষ্ণুপুর সর্বজনীন বরাবরই ভরসা রাখে পদ্মশ্রীপ্রাপ্ত শিল্পী নূরউদ্দিন আহমেদের উপরে। তিনি ও তাঁর দুই পুত্র রাজ ও দীপের পরিচালনাতেই নাগলোকের মণ্ডপ গড়া চলছে। মূল আকর্ষণ মণ্ডপের ভিতরে, যেখানে পুরোটাই থাকছে জল। দর্শকদের ঠাকুর পর্যন্ত যেতে হবে নৌকায়। রাখা হয়েছে ১০টি নৌকা। অবশ্য ভিড়ের চাপ বাড়লে পাশের সেতু হয়েও প্রতিমা দর্শনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এখানকার পুজো দেখতে ভিড়ের ধাক্কায় বেড়া ভাঙা, মানুষের অসুস্থ হয়ে পড়া, বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে যাওয়ার মতো ঘটনা ফি-বছর ঘটে। সাধারণ লাইনে ঠাকুর দেখতে ৩ ঘণ্টা পার হয়ে যায়।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস দাস বলেন, ‘‘দর্শক, বিশেষ করে বয়স্কদের কাছ থেকে অনুরোধ পেয়েই এ বছর বিশেষ পাস-এর কথা ভেবেছি। অনেকে ভাবছেন, পুজো দেখতে টিকিট লাগবে। তা নয়। পুজো প্রতি বারের মতোই সকলের জন্য খোলা থাকছে। কিন্তু যাঁরা ভিড় বাঁচিয়ে, দ্রুত ঠাকুর দেখতে চান, তাঁদের জন্য ১৯৯ টাকার টিকিটের ব্যবস্থা করছি। এই বুকিং সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। ভাল সাড়াও পাচ্ছি।’’
দেবাশিসের বক্তব্য, নিছক টাকা রোজগারের জন্য এ কাজ তাঁরা করেননি। প্রতিদিন দেড়-দু’ লক্ষ দর্শক এই পুজো দেখতে আসেন। বিশেষ পাস দেওয়া হবে দৈনিক ৪০০-৫০০টি। বয়স্ক ও শিশুদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর অসুবিধা দূর করতেই এই ব্যবস্থা। ১৫ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বেলা ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত যে কোনও সময়ে ওই পাস নিয়ে ঠাকুর দেখা যাবে।