এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হওয়ার ১৪ বছর আগেকার নিয়ম বলবৎ করতে এখন উঠেপড়ে লেগেছে দিল্লি সরকার। কেন একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার পরে দিল্লি সরকার শীতঘুম থেকে জেগে উঠল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে প্রধান বিরোধী দল আম আদমি পার্টি। কিন্তু দিল্লিতে তাঁদের দশ বছরের শাসনে পরিবহণ সংক্রান্ত ওই নিয়ম যে মানা হত এমনটাও জোর গলায় দাবি করতে পারছেন না আপ নেতারা। দিল্লিবাসীর আক্ষেপ, ক’দিন ধরপাকড় চলবে। তার পরে সবাই সব কিছু ভুলে যাবেন।
গত অগস্ট মাসে বৃষ্টির রাতে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার অছিলায় এক কিশোরীকে ফাঁকা বাসে তুলে নিয়েছিল ওই বাসের চালক ও কন্ডাক্টর। বিলাসবহুল ওই বাসের জানালায় পর্দা থাকার সুবিধে নিয়ে ওই কিশোরীকে চালক ও কন্ডাক্টর ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৪ বছর আগে ঠিক এ ভাবে দিল্লিতে বাসের মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন নির্ভয়া। তার পরে নিরাপত্তার খাতিরে একাধিক নিয়ম চালু হয়। যেমন বাসের জানলায় কালো ফিল্ম বা পর্দা লাগানো যাবে না। কিন্তু সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনায় দেখা যাচ্ছে ওই বাসটিতেও জানালায় পর্দা ছিল। ফলে বাসের ভিতরে কী চলছে তা বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব হয়নি।
এই চিত্রটি পাল্টাতে ১৪ বছর আগের নিয়ম ফের নতুন করে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি সরকার। যা দিল্লির সমস্ত বাস এবং যে সব ভিন্ রাজ্যের বাস দিল্লির উপর দিয়ে যায় তাদেরও মানতে হবে। নিয়মে বলা হয়েছে, প্রতিটি বাসে ‘ভেহিক্ল লোকেশন ট্র্যাকিং ডিভাইস’ (ভিএলটিডিএস) এবং ‘প্যানিক বাটন’ থাকতে হবে। যাতে যাত্রীরা ‘প্যানিক বাটন’ টিপলেই বাসের অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। জানলায় পর্দা তো নয়, এমনকি রোদ রুখতে বাসের কাচে কালো ফিল্ম লাগানো যাবে না। প্রতিটি বাসের চালক ও কন্ডাক্টরের সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে নিতে বলা হয়েছে বাস মালিকদের। মদ্যপান করে গাড়ি চালালে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দিল্লির পরিবহণ দফতর। যাত্রীদের তুলতে ও নামাতে হবে নির্দিষ্ট স্টপেজেই। গাড়ির মধ্যে কোনও মহিলার সঙ্গে অসভ্যতা হলে চালক ও কন্ডাক্টর যদি গাড়ি থামাতে ব্যর্থ হন তাহলে কাছাকাছি থানা, পুলিশ ফাঁড়ি বা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ ভ্যানের সাহায্য নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।