লোকসভার বাদল অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি হয়েছে বাইশ দিন আগে। কিন্তু কিছুটা অভিনব ভাবেই এখনও অধিবেশন শেষের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। ইঙ্গিত স্পষ্ট, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত বিল পাশ করার জন্য মরিয়া কেন্দ্রীয় সরকার ডিএমকে-র জন্য দরজা খোলা রাখছে। সূত্রের খবর, মোদী সরকারের সঙ্গে বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য ডিএমকেও তাদের দরজা বন্ধ করেনি। তবে দলের শীর্ষ নেতা এম কে স্ট্যালিন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
কয়েক দিন আগে ডিএমকে সাংসদ তিরুচি শিবা দাবি করেছিলেন, তাঁদের দল লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল নিয়েএখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। রাজনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, ডিএমকে আসলে সবরকম রাস্তা যাচাই করে দেখছে। তাদের অগ্রাধিকার দক্ষিণ ভারতের আবেগের বিপরীতে না যাওয়া। আর সে কারণেই আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তামিলনাড়ুর বিধানসভায় অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে ভোটও দিয়েছে ডিএমকে। কিন্তু এর পাশাপাশি দলের ভিতরে চাপ রয়েছেকংগ্রেসকে ‘উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার’। এই পরিস্থিতিতে কী করলে সাপ মরবে অথচ লাঠিও ভাঙবে না, সেই রণনীতির চিন্তা চলছেডিএমকে শিবিরে।
সূত্রের দাবি, এই নিয়ে বিজেপি-র তাড়া থাকলেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ডিএমকে যথেষ্ট সময় নিতে চাইছে। নভেম্বরের ২০ তারিখের আগে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনশুরু হবে না। সম্প্রতি দক্ষিণের মুখ্যমন্ত্রীদের জ়োনাল কাউন্সিলের বৈঠকে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীসি বিজয় জোসেফের সঙ্গে আলোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৈঠকের পর বিজয় সাংবাদিকদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, আসন পুনর্বিন্যাস বিলটির ফলে দক্ষিণ ভারতের সাংবিধানিক প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে। তবে সূত্রের খবর,এ ব্যাপারে কেন্দ্রের সঙ্গে বিজয়ের গোপন সমঝোতা হয়েছে। তামিলনাড়ুর তথা দক্ষিণের আসনসংখ্যার আনুপাতিক বৃদ্ধির স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখা হলে বিলে তাঁরা সমর্থন করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।
বাদল অধিবেশন চলাকালীন সংসদ চত্বরে একই শর্তের কথা ডিএমকে নেতারাও জানিয়েছিলেন। যদিও কংগ্রেসের দাবি, আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে ডিএমকে-র সঙ্গে বিরোধী মঞ্চ ইন্ডিয়া-র দলগুলির মতপার্থক্য নেই। তামিলনাড়ু বিধানসভায় এই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটিতেই তা স্পষ্ট হয়েগিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন দাবি করেছেন, বিল পাশের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার ধারে কাছেও নেই বিজেপি। তবে বিরোধীদেরউপরs চাপ তৈরির জন্যই বিজেপি অধিবেশন সমাপ্তির নোটিসদিচ্ছে না। ডেরেক বলেন, “আমরা ডিএমকে-র সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছি। ডিএমকে নেতৃত্ব স্পষ্টভাষায় আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন, এই বিল তাঁরা সমর্থন করবেন না।”