E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

কোন লক্ষ্যপূরণ মোদীর ইজ়রায়েল সফরে, প্রশ্ন

সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে ভারতের জটিল সম্পর্ককে জটিলতর করে দিল মোদীর ইজ়রায়েল সফর— এমনটাই মনে করা হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এবং মোদী সে দেশের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় জানালেন, সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারি’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৫২
(বাঁ দিকে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তাঁর ‘ভাই’ বলে সম্বোধন, ভারতীয় পোশাকে নৈশভোজে আপ্যায়ন এবং বিমানবন্দরে তাঁকে মোদীর আলিঙ্গনকে ‘বিশেষ সৌজন্য’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। আর তা থেকেই স্পষ্ট মোদীর ইজ়রায়েল সফর নিয়ে বেজায় খুশি তিনি! নিজে দেশে ভোটের মুখে দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহু। দুর্নীতি, নিরাপত্তা এবং গাজ়ায় গণহত্যার ‘খলনায়ক’ হিসেবে দেশের ভিতরে ও পশ্চিমের বড় শক্তিগুলির কাছে ক্রমশ অপ্রিয় হয়ে ওঠা নেতানিয়াহুর কাছে মোদীর সফর ছিল মধুময়। কিন্তু কূটনৈতিক শিবিরে প্রশ্ন, নেতানিয়াহুর পাশে দৃঢ় ভাবে থাকার বার্তা বারবার দিয়ে আলাদা করে কী কূটনৈতিক লক্ষ্য পূরণ হল মোদীর? বিষয়টি উল্টোপূরাণ হতে চলেছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশকরছেন বিশেষজ্ঞেরা।

সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে ভারতের জটিল সম্পর্ককে জটিলতর করে দিল মোদীর ইজ়রায়েল সফর— এমনটাই মনে করা হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে এবং মোদী সে দেশের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তৃতায় জানালেন, সম্পর্ককে ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারি’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ১৬টি চুক্তি হল কৃত্রিম মেধা, বিরল খনিজ, কৃষি, শিক্ষার মতো ক্ষেত্রগুলিতে। মনে করা হচ্ছে, ২০১৭ সালে মোদীর ইজ়রায়েল সফরের তুলনায় এ বারের সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় অধিক মুক্তকচ্ছ হয়েছেন নেতানিয়াহু। কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য, এমন একটা সময়ে মোদীর এই সফর, যখন বিশ্বে ক্রমশ একলা হয়ে পড়ছে ইজ়রায়েল। সেই সঙ্গে বছরের শেষে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে নেতানিয়াহুকে।

এটা ঘটনা যে ইজ়রায়েলের পার্লামেন্টে মোদী তাঁর বক্তৃতায় রাজনৈতিক ভাবে নেতানিয়াহুর হাত শক্ত করে ফিরলেন। প্যালেস্টাইনের সার্বভৌমত্ব নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি মোদী, যা নেতানিয়াহুর জন্য স্বস্তির। প্রধানমন্ত্রী ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের করা ইজ়রায়েলের উপর হামলার জন্য ভারতের হয়ে দুঃখপ্রকাশ করেছেন, কিন্তু তারপর থেকে ইজ়রায়েলের প্রত্যাঘাতে গাজ়ার ৭২ হাজার মানুষের প্রাণহানি নিয়ে কোনও শব্দ খরচ করেননি। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস, মোদী তেল আভিভে থাকাকালীনই এই নিয়ে তাঁর প্রতি রাজনৈতিক শর নিক্ষেপ করতে শুরু করেছে। কূটনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, আশা করা হয়েছিল মোদী তেল আভিভে গিয়ে প্যালেস্টাইন-ইজ়রায়েল সংঘাত নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করবেন, যেমনটা তিনি করেছিলেন ২০১৭ সালে। সে বারে তিনি ইজ়রায়েলের পর প্যালেস্টাইন সফর করেছিলেন। এ বারে ইরানকে আমেরিকার হুমকির মধ্যেই তাঁর তেল আভিভ সফরে ঝুঁকি থেকে গিয়েছে একটি বিশেষ পক্ষ নেওয়ার।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
India-Israel israel PM Narendra Modi

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy