কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নবগঠিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে নয়া সদস্য হিসাবে পরিচয় দিতে গিয়ে প্রথমে শুধু নিজের নাম বলেই থেমে গেলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর কমিটির চেয়ারম্যান রাধামোহন দাস আগরওয়াল আরও বিশদে পরিচয় জানতে চাইলে নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রের নাম বললেন শুধু। বলতে পারলেন না তাঁর দলের নাম। আজ রাজনৈতিক সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে।
মমতাপন্থী তৃণমূলের বক্তব্য, বিষয়টি অভূতপূর্ব! সব সময়ই নতুন সাংসদরা নিজের পরিচয় দেওয়ার সময় নিজের নামের সঙ্গে দলের নাম বলবে এটাই স্বাভাবিক। সঙ্গে আরও দু’চার কথাও বলেন অনেকেই। আজও অন্য নতুন সাংসদদের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে। ব্যতিক্রম রচনাই। আজ সন্ধ্যায় মিনিট পাঁচেকের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে দেখা করেন রচনা। তিনি রেলমন্ত্রীর সময়ও চেয়েছেন নিজের সংসদীয় এলাকার কিছু কাজের জন্য। কিন্তু এখনও সময় পাননি। রাজনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, অস্তিত্বের সঙ্কটে ভুগছে এনসিপিআই। সংসদের ওয়েবসাইটে দলত্যাগী ২০ জন সাংসদ এখনও পরিচিত সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নামে।
সাংসদ পদ খারিজ নিয়ে লোকসভার সচিবালয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে গত ২০ অক্টোবর চতুর্থ বারের জন্য আরও দু’সপ্তাহের বাড়তি সময় চেয়েছিলেন এনসিপিআই নেতৃত্ব। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামিকাল, কিন্তু স্পিকার এখনও তাঁদের সেই সময়সীমা নির্ধারণ করেননি, কারণ সচিবালয়ের তরফে কোনও চিঠি এনসিপিআইয়ের কাছে যায়নি। আজ ও আগামিকাল তিরুঅনন্তপুরমে স্পিকারের অনুষ্ঠান রয়েছে, ফলে তিনি দিল্লি থাকবেনও না। স্পিকারের সচিবালয়ের পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টেও দলত্যাগীদের সদস্যপদ খারিজের মামলা করেছেন লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার শুনানিও ঝুলে রয়েছে। ফলে এনসিপিআই এখনও স্বীকৃত নয়, আবার তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসায় সেই দলের নামোচ্চারণও করা সম্ভব নয় ওই ২০ জনের। এই সসেমিরা পরিস্থিতিতে আজ তাই সংসদীয় কমিটিতে পরিচয় দেওয়ার সময়ে নিজের দলের নাম উহ্য রাখতে হল রচনাকে।
এ দিকে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পরামর্শদাতা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে বর্তমানে রাজস্থানের জয়সলমেরে রয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। জয়সলমের ওয়ার মিউজ়িয়ামে অনুষ্ঠিত বৈঠকের আলোচ্যসূচি—ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণ। ওই কমিটির সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সৌগত রায়। তাঁরা দু’জনেই বৈঠকে যোগ দিয়েছেন। গোটা অনুষ্ঠানেই সুদীপকে রাজনাথের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। প্রসঙ্গত, এনসিপিআইয়ের জন্য তিনটি পূর্ণমন্ত্রীর পদ বিজেপি নেতৃত্বের কাছে চেয়ে রেখেছেন সুদীপ।