E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

সরকার আতঙ্কিত, দাবি রাহুলের

মোদী সরকার সংসদে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও রাহুল সাংবাদিক বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিশানায় রেখেছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০৭:২১
ধর্নাস্থল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাহুল গাঁধীকে।

ধর্নাস্থল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে রাহুল গাঁধীকে। — ফাইল চিত্র।

মোদী সরকার ‘মনস্তাত্ত্বিক ভাবে ভেঙে পড়েছে’ বলে দাবি করলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর মতে, সে জন্যই ‘আতঙ্কিত’ হয়ে সরকার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলনে নামা পড়ুয়াদের উপরে পুলিশি হামলা চালিয়েছে।

সোমবার নিট-এর প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ও শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে, ককরোচ জনতা পার্টির ‘সংসদ চলো’-র ডাকে রাস্তায় নামেন লাখো ছাত্রছাত্রী। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেস-সহ বিরোধী নেতানেত্রীরা ধর্নায় বসেন। দুই ক্ষেত্রেই দিল্লি পুলিশ ও আধাসেনা শক্তি প্রয়োগ করেছে। সরকার-বিরোধী আক্রমণের ঝাঁঝে মোদী সরকার সংসদে আলোচনার প্রস্তাবও দিয়েছে। চাপ আরও বাড়াতে রাহুল বলেন, ‘‘সব আমলেই একটা সময় আসে, যখন সরকারের নেতৃত্ব মনস্তাত্ত্বিক ভাবে ভেঙে পড়েন। এখানেও তা-ই হয়েছে। মোদী সরকার আতঙ্কগ্রস্ত। সরকার ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে যে আচরণ করছে, তা আতঙ্ক থেকেই করছে।’’

মোদী সরকার সংসদে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও রাহুল সাংবাদিক বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিশানায় রেখেছেন। রাহুলের বক্তব্য, নিজের অকর্মণ্যতার জন্য প্রধানকে ইস্তফা দিতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, পড়ুয়াদের উপরে পুলিশি হামলার যিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁকে দায় নিতে হবে। গোটা সরকারি ব্যবস্থা যিনি পরিচালনা করছেন, সেই প্রধানমন্ত্রীকে ভুল স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে। রাহুলের বক্তব্য, ‘‘এই তিনটি দাবি নিয়ে দর কষাকষি সম্ভব নয়। এই তিনটি দাবি ছাত্রছাত্রীরা তুলেছেন।’’ রাহুলের অভিযোগ, মোদী জমানায় ১৫২টি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। সাড়ে সাত কোটি পড়ুয়া ক্ষতিগ্রস্ত। কিন্তু কেউ দোষী সাব্যস্ত হয়নি। মোদী সরকারের শিক্ষায় বাজেট ১.৪ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু নিট-এর পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য বছরে তাঁদের পরিবার ১.৩২ লক্ষ কোটি টাকা নিজের পকেট থেকে খরচ করে।

মঙ্গলবার রাহুলকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। তাঁর নাক থেকে রক্ত বার হয়। প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরাও চোট পান। ইন্দিরা ভবনে তিনি আসেন পায়ের আঙুলে ব্যান্ডেজ নিয়ে। রাহুল বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে, তা অপ্রাসঙ্গিক। পড়ুয়াদের সঙ্গে কী আচরণ হয়েছে, সেটাই আসল।’’ তাঁর দাবি, ‘‘আটকের সময়ে পুলিশরা কানে কানে বলেন, এই সরকারকে হটান।’’

পাল্টা জবাবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নড্ডা অভিযোগ তোলেন, রাহুল ছাত্রদের সমস্যার রাজনীতিকরণ করছেন। বেছে বেছে বিজেপিশাসিত রাজ্যে প্রশ্ন ফাঁসের কথা বলছেন। রাহুলের বক্তব্য, ‘‘আমার কাজই হল দেশের মানুষের মনের কথাতুলে ধরা।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Congress NDA Dharmendra Pradhan

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy