নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চ়ড়ানো অব্যাহত রাখলেন রাহুল গাঁধী। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ফর্ম ৬-এর বদল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের কার নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস (টিসিএস)-কে এই পরিবর্তন করতে দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা।
প্রসঙ্গত, ফর্ম ৬ জমা দিয়ে ভোটারদের ভোটার তালিকায় নাম তোলার আর্জি জানাতে হয়। কমিশনের ‘ইসিআইনেট’ পোর্টালে এই ফর্মটি বদল করা হয়েছিল। আর পোর্টালটি পরিচালনা এবং পরিকাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টিসিএস। রাহুলের প্রশ্ন, ফর্ম ৬ বদল করার জন্য টিসিএস-এর উপর কি কোনও বিশেষ রাজনৈতিক চাপ ছিল? সংস্থার ঠিক কোন আধিকারিক এই পরিবর্তনে সই করেছিলেন?
গত বুধবার প্রকাশিত ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, গত ১০ মাসে ১৪ বার কমিশনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন দুই নির্বাচন কমিশনার সঁধু এবং জোশী। ফর্ম ৬-এর বদল নিয়েও ওই দু’জন কমিশনার আপত্তি জানান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এসআইআর-পর্বে নতুন ভোটারদের জানাতে হয়েছে যে, আগের এসআইআর-এ তাঁদের বাবা বা পিতামহের নাম রয়েছে কি না। সরকার এই সংক্রান্ত আইনে সংশোধন করার আগে ফর্ম বদলানো ঠিক হবে না বলে আগেই সতর্ক করেছিলেন সঁধু। কিন্তু সেই সতর্কতা কানে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন বলছে, গত ১৩ অগস্ট সঁধু ফর্ম ৬-এর এই বদলকে ‘অবৈধ’ বলেছিলেন। পিতা কিংবা পিতামহের সঙ্গে ওই ম্যাপিং সংক্রান্ত বিষয়টি দ্রুত সরিয়ে ফেলা উচিত বলেও মতপ্রকাশ করেন তিনি।
গত ডিসেম্বরে বিহারে এসআইআর চলার সময় প্রথম ফর্ম ৬-এ বদল আনে কমিশন। সেই সময় ওই ফর্মের সঙ্গে ভোটারদের আলাদা করে এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য জানাতে হচ্ছিল। গত ১২ জুলাই ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসিআইনেট পোর্টালে গিয়ে যাঁরা ফর্মপূরণ করছেন, তাঁদের জানাতে হচ্ছে আগের এসআইআর-এ পিতা বা পিতামহের নাম রয়েছে কি না। যদি নাম থাকে, তা হলে বুথ এবং সিরিয়াল নম্বর জানাতে বলা হয়।
বিতর্কের আবহে নতুন ভোটারদের নাম তোলার ফর্মে (ফর্ম ৬) ফের বদল আনে কমিশন। সেটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বুধবার রাত থেকে কমিশনের ‘ইসিআইনেট’ পোর্টালে যে ফর্ম ৬ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে আবেদনকারীকে এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য দিতে হচ্ছে না। তবে যে ১০টি রাজ্য এবং তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, কেবল সেগুলির জন্য এই নতুন ফর্ম প্রযোজ্য হবে।
শনিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল যে, যে সমস্ত রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে না বা হয়ে গিয়েছে, সেগুলিতে ১৯৬০ সালের ভোটার আইন অনুযায়ী ফর্ম ৬ পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, এসআইআর-পর্বের আগে যে চেহারায় ফর্ম ৬ মিলত, সেই চেহারাতেই সেটি মিলবে। এই ঘোষণার তিন দিন পর কমিশনের পোর্টালে ফের পুরনো চেহারার ফর্ম ৬ পাওয়া গেল, যেখানে ভাবী ভোটারকে এসআইআর সংক্রান্ত কোনও নথি দিতে হচ্ছে না।