বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবার নরেন্দ্র মোদীর উত্তরসূরি খোঁজার কাজ শুরু করে দিয়েছেবলে দাবি করলেন রাহুল গান্ধী। বুধবার সন্ধ্যায় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের নেতাদের সামনে তিনি এ কথা বলেছেন বলে সূত্রের খবর।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুলের যুক্তি, বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবার বুঝেছে, নরেন্দ্র মোদীকে মুখ করে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনে লড়তে গেলে আর ভোট মিলবে না। একই সঙ্গে কংগ্রেসে ঐক্যের জোরের কথা মনে করিয়ে তিনি বলেছেন, ভোটে হারতেই তৃণমূল ভেঙে টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু কংগ্রেস ভোটে হারলেও এ ভাবেভেঙে পড়েনি।
প্রশ্ন উঠেছে, রাহুল কি সঙ্ঘ পরিবার, বিজেপির মধ্যে ফাটল তৈরি করতে চাইছেন? বৃহস্পতিবার রাজীব গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাহুল আরএসএসকেও নিশানা করেছেন। তিনি বলেছেন, আরএসএস ঠিক করে নিয়েছে যে তারা দেশের ১৫০ কোটি মানুষের সত্যটা জানে। বাস্তব হল, দেশের ১৫০ কোটি মানুষ নিজেদের সত্যটা জানেন।
কংগ্রেস সূত্রের খবর, দল কেন তরুণদের সমর্থন পাচ্ছে না, তা নিয়ে ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে প্রশ্ন উঠেছে। এক লোকসভার সাংসদ বলেছিলেন, ককরোচ জনতাপার্টির আন্দোলনে তরুণরা এগিয়ে এসেছেন। কিন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে তরুণরা যোগ দেয় না। রাহুল বলেন, এটা ঠিক নয়। ১৯৮০, ১৯৮৪, ২০০৪ ও ২০০৯-এর লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস যুবদের সমর্থন পেয়েছিল। এখন তরুণদের বিক্ষোভের জেরে প্রধানমন্ত্রী ঘাবড়ে গিয়েছেন। তাঁর ১৫ অগস্টের বক্তৃতায় তা স্পষ্ট। রাহুল বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদীর রাজনৈতিক সমাপ্তি হয়ে গিয়েছে। ওঁর উত্তরসূরির খোঁজ চলছে।’’
ছাত্রছাত্রীদের সামনে কংগ্রেস নিজস্ব শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের মডেল তুলে ধরতে চাইছে। চারটি কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের চার দফা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডার আগাম প্রকাশ। দুই, শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগের ক্যালেন্ডার প্রকাশ। তিন, জাতপাতের বৈষম্য রুখতে রোহিত ভেমুলা আইন। চার, রাজ্যের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস রুখতে কড়া আইন।
সূত্রের খবর, বৈঠকে রাহুল বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ, কেন্দ্রীয়করণ ও সঙ্ঘীকরণই যাবতীয় সমস্যার মূল।