পূর্ব দিল্লির ত্রিলোকপুরী। সাদা কাপড় দিয়ে ঘেরা ছোট্ট মঞ্চ। দিল্লিতে এসআইআর নিয়ে জনশুনানি চলছে। সেখানে হাজির হয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী অভিযোগ তুললেন, একেবারে ‘টপ লেভেল’ বা সর্বোচ্চ স্তর থেকে ‘ভোট চুরি’ হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে রাহুল বলেছেন, ‘‘ভোট প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের অধিকার। কিন্তু আজ কোটি কোটি মানুষের থেকে সেই অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমরা অনেক দিন ধরে এই বিষয়টা তুলছি। এখন গোটা দেশ বুঝে গিয়েছে সর্বোচ্চ স্তর থেকে ভোট চুরি হচ্ছে। গরিবদের ভোটার তালিকা থেকে বার করে দেওয়া হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী শুধু ধনীদের ভারতবানাতে চান।’’
দিল্লিতে এসআইআর নিয়ে ত্রিলোকপুরীর চারটি বুথে সিপিআইএমএল, এমকেএসএস (মজদুর কিসান শক্তি সংগঠন)-এর সদস্যেরা সমীক্ষা চালিয়েছিলেন। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য জনশুনানির আয়োজন হয়েছিল। সিপিআইএমএলের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, এমকেএসএসের নিখিল দে, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণেরাও হাজির ছিলেন জনশুনানিতে। রাহুল বলেন, ‘‘এই চারটি বুথে ৪১৬ জনের নাম বেআইনি ভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আমরা এ নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে প্রশ্ন করলে তিনি জবাব দেন না। যত ক্ষণ না জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দেন, পুরো বিরোধী শিবির একজোট হয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধেসরব হবে।’’
‘ভোট চুরি’ নিয়ে বিরোধী জোটের প্রচার, আগামী রবিবারের রামলীলা ময়দানের জনসভার পাল্টা জবাবে বিজেপি দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, আরজকতা হটাও’ কর্মসূচি শুরু করেছে। বুধবার দিল্লির চাঁদনি চকে পদযাত্রা হবে। বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন তাতে যোগ দেবেন। মাঠে নামছেন অমিত শাহও। সূত্রের মতে, ১ নভেম্বর ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চের রামলীলা ময়দানে জনসভার পরের দিন, ২ নভেম্বর কংগ্রেস শাসিত তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে পদযাত্রা করবেন শাহ। ৫ নভেম্বর হরিয়ানার কার্নালেও শাহের নেতৃত্বে পদযাত্রার পরিকল্পনা রয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেশের তরুণদের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়ার যে কৌশল ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চ নিয়েছে, তার প্রতিবাদেই পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শাহেরা।
বিজেপির পাশে দাঁড়িয়ে এনডিএ-র অন্যতম শরিক তেলুগু দেশমের প্রধান, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু বলেন, ‘‘ইভিএমের মাধ্যমে হওয়া ভোটে যদি কংগ্রেস জেতে, তা হলে ইভিএমে সমস্যা নেই। কিন্তু হারলেই অভিযোগ ওঠে ইভিএম ত্রুটিপূর্ণ। কংগ্রেসের উচিত ইভিএম প্রশ্নে একটি নির্দিষ্ট অবস্থান নেওয়া।’’