চার বছর আগে উত্তরাখণ্ডে নিহত এক তরুণীর বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় ইন্ডিয়া গেটের সামনে প্রতিবাদে শামিল হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গাঁধী এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বাড্রা। উত্তরাখণ্ডের অঙ্কিতা ভান্ডারীর খুনের বিচার চেয়ে তাঁর বাবা-মা ইন্ডিয়া গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন। সন্ধ্যায় হঠাৎ সেখানেই পৌঁছে যান রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা। তাঁরাও প্রতিবাদে যোগ দেন। প্রাক্তন বিজেপি নেতা দুষ্মন্ত গৌতমকে সিকিমের রাজ্যপাল পদে নিয়োগ করার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ দেখাচ্ছে অঙ্কিতার পরিবার।
১৯ বছরের অঙ্কিতা খুন হয়েছিলেন ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর। ঋষিকেশের একটি রিসর্টে রিসেপশনিস্ট হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তার ২০ দিনের মাথায় নিখোঁজ হয়ে যান। ছ’দিন পর একটি খাল থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযোগ, ওই রিসর্টে ‘যৌন পরিষেবা’ দিতে বাধ্য করা হত অঙ্কিতাকে। ‘ভিআইপি’র সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরির জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। তাতে রাজি না-হওয়ায় তাঁকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ঋষিকেশের ওই রিসর্টের ম্যানেজার ছিলেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যের পুত্র পুলকিত আর্য। অঙ্কিতাকে খুনের অভিযোগে তিনি জেল খাটছেন।
আরও পড়ুন:
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা দলের তফসিলি জাতি মোর্চার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দুষ্মন্তের যোগ রয়েছে বলে অঙ্কিতার পরিবারের অভিযোগ। তাঁরা দাবি করেছেন, তদন্তে যে ‘ভিআইপি’র কথা উঠে এসেছে, অর্থাৎ যাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য অঙ্কিতাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল, তিনি এই দুষ্মন্ত। কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিও তাঁকে নিয়ে সরব হয়েছিল। সম্প্রতি সেই দুষ্মন্তই সিকিমের রাজ্যপাল পদে নিযুক্ত হয়েছেন। তা মেনে নিতে পারছেন না কন্যাহারা বাবা-মা। সূত্রের খবর, সোমবার দুষ্মন্তের নিয়োগের পর মঙ্গলবারই তাঁরা রাহুলের দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার পর বুধবার ইন্ডিয়া গেটের সামনে দুষ্মন্তের নিয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন। সেখানে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা। কন্যাহারা দম্পতির পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।