আরএসএস-কে পুরুষ সর্বস্ব, অসাংবিধানিক গোষ্ঠী বলে আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গাঁধী। পাল্টা গেরুয়া শিবিরের দাবি, রাহুল গাঁধী আরএসএসের সাংবিধানিক কাঠামো ও ইতিহাস সম্পর্কে আদৌ ওয়াকিবহাল নন। তাই এ ধরনের মন্তব্য করেছেন।
ফি বছর বিজয়া দশমীর দিন সংগঠনের কর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেন সঙ্ঘপ্রধান। সেই প্রথা মেনেই গত কাল নাগপুরে আরএসএসের সদর দফতরে বক্তৃতা দেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। তার পরেই সঙ্ঘের মনোভাব ও আদর্শের বিরোধিতায় মুখ খোলেন রাহুল গাঁধী। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘‘আরএসএস হল পুরুষকেন্দ্রিক, সংবিধান-বিরোধী একটি সংগঠন, যারা মনে করে নারীরা পুরুষের সম্পত্তি। আমি শিব-শক্তিতে বিশ্বাস করি। আর ঠিক এই কারণেই আরএসএসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমার এত আনন্দ হয়।’’ আরএসএসের পুরুষ সর্বস্ব মনোভাবের কারণে সঙ্ঘের ভাবধারায় বিশ্বাসী মহিলারাও তাঁর পক্ষে এসে দাঁড়াচ্ছেন বলে দাবি করেন রাহুল।
রাহুলকে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মুখপাত্র বিনোদ বনসল বলেন, ‘‘রাহুল গাঁধীর মতো নেতা আসলে মানসিক দেউলিয়াপনার শিকার। তিনি আরএসএসের অনুষ্ঠানে মহিলাদের উপস্থিতি লক্ষ করেননি।’’ গেরুয়া শিবিরের মতে, রাহুলের সম্ভবত কোনও ধারণাই নেই যে মহিলাদের জন্য আরএসএসের ঠিক ক’টি শাখা রয়েছে, যারা পুরুষদের মতোই সক্রিয়। বিজেপির নেতার কথায়, আরএসএসের অন্যতম শাখা সংগঠন হল রাষ্ট্রসেবিকা সমিতি।
অন্ধ্রপ্রদেশের বিজেপি নেতা এন রামচন্দ্র রাও পাল্টা প্রশ্নে জানতে চেয়েছেন রাহুলের দলে ক’জন মহিলা গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘রাহুল মনে হয় ভুলে যাচ্ছেন তাঁর দল কতটা পুরুষ-শাসিত। তাঁরা যে রাজ্যগুলিতে শাসন করছেন, সেই রাজ্যগুলির ক’টিতে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন?’’ নারী সংরক্ষণ আইনের প্রয়োগ তথা লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল আটকে রাখার জন্য রাহুলের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন রাও।
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, কেবল বিতর্ক সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন রাহুল। বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নকভি বলেন, ‘‘কোনও সংগঠন সম্পর্কে বলার আগে রাহুলের উচিত সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া। যত দিন রাহুল গাঁধীরা এই ক্ষুদ্র রাজনীতির পথে চলতে থাকবেন, তত দিন তাঁরা কারও সমর্থন পাবেন না। কেউ তাঁদের সাহায্য করবে না।’’