আগামী মাসে ব্রিকস শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিতে আসার কথা চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। তার আগে অরুণাচল প্রদেশে চিনা আগ্রাসনের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল দেশের রাজনীতি। আজ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী কংগ্রেসের সম্মেলনে দাবি করেছেন, তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে খবর পেয়েছেন, অরুণাচলের বেশ কিছু এলাকায় ভারতীয় সেনাকে টহলদারি করতে আটকেছে চিনা সেনা। ঘটনাচক্রে, সেনা সূত্র থেকে এই ধরনের রিপোর্টকে অমূলক বলে উড়িয়ে দেওয়ার পর রাহুল এই অভিযোগ তুললেন।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, রাহুল এই অভিযোগ তোলার আগে, বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন মোদী সরকারের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব আর কে সিংহ। নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন তিনি। অরুণাচলে চিনা বাহিনী কতটা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকেছে, তা স্পষ্ট করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহকে আহ্বান জানিয়েছেন আর কে সিংহ। তিনি জানতে চেয়েছেন, অরুণাচল প্রদেশের তাকসিং এলাকায় শেরা পয়েন্ট ৫ ছাড়াও আর কোনও টহলদারির বিন্দুতে ভারতীয় সেনাদের প্রবেশ চিনা বাহিনী বন্ধ করে দিয়েছে কি না। তাঁর কথায়, ভারতের কোনও টহলদারির এলাকা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে সরকারকে স্পষ্ট বক্তব্য দিতে হবে। শেরা পয়েন্ট ৫ অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবনসিরি জেলার তাকসিং এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ টহল বিন্দু। তিব্বত সীমান্তের কাছে তাকসিং হল ভারতের শেষ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর মধ্যে একটি।
আজ এই প্রসঙ্গে রাহুল গান্ধী মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন, ছ’বছর আগের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘাতের কথা। তাঁর বক্তব্য, “গালওয়ান কাণ্ডের পর প্রধানমন্ত্রী বৈঠক ডেকেছিলেন জ়ুম কলে। তিনি তখন বলেছিলেন, চিন ভারতীয় জমির এক ইঞ্চিও নাকি দখল করেনি। অথচ সেনা বলেছিল, ভারতীয় জমি চিন দখল করেছে।” রাহুলের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর ওই বিবৃতি ভারতকে চিনের সঙ্গে দর কষাকষির ক্ষেত্রে দুর্বল করে দিয়েছিল।
তাংসিং এলাকায় চিনের পিএলএ ভারতীয় টহলদারি বাহিনীকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ টহলদারি পয়েন্টে যেতে বাধা দিচ্ছে— সম্প্রতি আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ‘পিপলস পার্টি অব অরুণাচল’-এর একটি তথ্যানুসন্ধানী কমিটির এমন মারাত্মক অভিযোগের পরেই বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। তবে তার পরেই সেনা সূত্র জানায়, “আমরা আমাদের কোনও ভূখণ্ড খোয়াইনি। দেশের সমস্ত পোস্ট ও ঘাঁটি দখলেই রয়েছে। আইটিবিপি-র কিছু আনুমানিক দাবির কথা সামনে এলেও, তার অধিকাংশেরই কোনও ভিত্তি বা প্রমাণ মেলেনি। আমরা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে নিশ্চিত যে, সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”