বার বার তিনি বিতর্কে জড়িয়েছেন। কখনও কৃষক আন্দোলন নিয়ে, আবার কখনও কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে নিয়ে মন্তব্য করে সংবাদের শিরোনামে চলে এসেছেন তিনি। সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সঙ্গে রাজ্যের স্কুলগুলির পরিকাঠামো নিয়ে সংঘাতে জড়িয়েছেন রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলওয়ার।
রাজস্থানের কোটার একটি সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিল খাওয়ার পর প্রায় ৩০ জন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, মন্ত্রী দিলওয়ারের অধীনে রাজস্থান শিক্ষা দফতরে যত কেলেঙ্কারি ঘটেছে, তা অন্য কোনও রাজ্যে ঘটেনি! দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনে ‘সাফল্যের’ পর দেশ জুড়ে নতুন অভিযানে নেমেছে সিজেপি। শুরু করেছে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি। সম্প্রতি সেই কর্মসূচিতে রাজস্থানের এক স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে বাধা পান সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা। ‘হামলার’ মুখে পড়েন তিনি। তা নিয়ে বিতর্কও হয়। শুধু সিজেপি নয়, অতীতে বার বার কংগ্রেসের সমালোচনার মুখে পড়েছেন দিলওয়ার।
ছ’বারের বিধায়ক দিলওয়ার। তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র রামগঞ্জ মান্ডি। সেই কেন্দ্রেই রয়েছে কোটা। এই কোটাকে দেশের অন্যতম কোচিং হাব বলা হয়। দিলওয়ার তাঁর বিধায়ক জীবনে বহু বার নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন। ভজনলাল শর্মার নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের আমলে তিনি শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। গত আড়াই বছরে বিতর্কের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়েছে।
‘বিতর্কিত’ কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ২০২১ সালে উত্তাল হয়েছিল গোটা দেশ। পথে নেমেছিলেন হাজার হাজার কৃষক। কৃষকদের সেই আন্দোলনের চাপে শেষ পর্যন্ত ‘বিতর্কিত’ তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় নরেন্দ্র মোদীর সরকার। সেই আন্দোলন চলাকালীন বিক্ষোভরত কৃষকদের নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন দিলওয়ার। তিনি সে সময় দাবি করেছিলেন, বিক্ষোভস্থলে কৃষকেরা শুকনো ফল (ড্রাই ফ্রুট), চিকেন বিরিয়ানি-সহ নানা উপাদেয় খাবার খাচ্ছেন। ‘ব্লাড ফ্লু ছড়ানোর ষড়যন্ত্র’-ও বলেও অভিযোগ করেছিলেন দিলওয়ার, যা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি।
২০২১ সালে বিধানসভায় দিলওয়ালের ‘মিনি পাকিস্তান’ মন্তব্যও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, রাজস্থানের ব্রজ অঞ্চল ‘সন্ত্রাসী এবং দুষ্কৃতীদের আস্তানা’য় পরিণত হয়েছে। ওই অঞ্চলে গোহত্যা এবং মহিলাদের উপর নির্যাতনের নানা ঘটনা ঘটছে। ২০২৩ সালে বিধানসভা থেকে কংগ্রেস নেতা সুখজিন্দর সিংহ রনধাওয়াকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। সে বছরই খড়্গকে নিয়ে করা দিলওয়ারের মন্তব্য সংবাদে শিরোনামে উঠে এসেছিল। তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও হয়।
২০২৪ সালে রাজস্থানের সরকারি স্কুলগুলিকে ‘সূর্য নমস্কার’ আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দিলওয়ার, যা নিয়ে আপত্তি ওঠে মুসলিম সংগঠনগুলির তরফে। কোটার এক স্কুলের তিন মুসলিম শিক্ষককে সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করেও বিতর্কে জড়ান দিলওয়ার। তাঁর অভিযোগ ছিল, ওই স্কুলে ধর্মান্তরণ এবং লভ জিহাদের ষড়যন্ত্র চলছে। যদিও পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দিলওয়ারের অভিযোগের সত্যতা প্রশ্ন তুলেছিল। তীব্র তাপপ্রবাহের কারণ ‘কংগ্রেসের কুকর্ম’, এমন মন্তব্যও শোনা যায় দিলওয়ারের কণ্ঠে।
আরও পড়ুন:
কংগ্রেস আমলের বিভিন্ন নীতির বিরোধিতা করতে গিয়ে নানা সময়ে নানা মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দেন দিলওয়ার। শিক্ষিকাদের পোশাক নিয়েও তাঁর মন্তব্য চাপে ফেলেছে ভজনলালের সরকারকে। এক অনুষ্ঠানে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘আমি অনেক মহিলাকে দেখি যাঁরা ঠিকঠাক পোশাক পরেন না। শরীর প্রদর্শন করে স্কুলে যান।’’ শিক্ষামন্ত্রী হয়ে এ ধরনের মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। পড়ুয়াদের আত্মহত্যার ঘটনাকে ‘প্রেমঘটিত’ বলে মন্তব্য করেও বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন দিলওয়ার। মোঘল সম্রাট আকবরকে ‘ধর্ষক এবং লুটেরা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আকবরের নাম মুখে নেওয়া পাপ।
নিট কেলেঙ্কারি এবং পরবর্তী সময়ে আন্দোলন নিয়েও রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। তিনি মনে করেন, নিট প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা কোনও বড় ব্যাপার নয়। সিজেপি-র মিছিল চলাকালীন ছাত্র বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের দমনপীড়নকে ন্যায্য বলে অভিহিত করেন দিলওয়ার।