আন্দোলনের পরিধি বৃদ্ধি করতে শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দেশ জুড়ে শুরু করেছে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচি। শুক্রবার রাজস্থানে এক স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে ‘হামলার’ মুখে পড়েন সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এল সে রাজ্যের স্কুলগুলির হাল-হকিকত। রাজস্থানের বিজেপি সরকার জানাল, ৬১১টি সরকারি স্কুলের কোনও নিজস্ব ভবন নেই। যদিও এর দায় পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের উপরেই ঠেলছে তারা।
রাজস্থানের বিরোধী দলনেতা তিকারাম জুল্লি এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন বিধানসভায়। তার জবাবে রাজস্থান সরকার ২০২৫-২৬ সালের তথ্য তুলে ধরেন। রাজস্থানের বিজেপির সরকার জানায়, সে রাজ্যের ৬১১টি সরকারি স্কুলের কোনও নিজস্ব ভবন নেই। এর মধ্যে বালিকা বিদ্যালয় রয়েছে ১০টি। সরকার জানাচ্ছে, এই ৬১১টির মধ্যে শুধু জয়পুরেই নিজস্ব ভবন ছাড়া চলছে ৩৮টি স্কুল। সরকার জানাচ্ছে, রাজস্থানে প্রায় ৬৪,৪৮৪টি সরকারি স্কুলে নিজস্ব ভবন রয়েছে। সেগুলির মধ্যেও আবার দু’হাজারের বেশি স্কুলে শৌচালয়ের সুবিধা নেই।
পানীয় জলের বন্দোবস্ত নেই এক হাজারেরও বেশি স্কুলে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শৌচালয়হীন স্কুলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রয়েছে রাজস্থানের বাঁসওয়ারায়। সেখানে ১৮৮টি স্কুলে এই সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি ডুঙ্গারপুরে ১২৮টি এবং উদয়পুরে ৯৮টি স্কুলে শৌচালয়ের অভাব রয়েছে। তবে এই অব্যবস্থার জন্য মূলত পূর্বতন সরকারের দিকেই আঙুল তুলেছে বিজেপি সরকার। যদিও রাজস্থানে সরকার বদলের পর প্রায় তিন বছর কেটে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
বিজেপি সরকারের দাবি, স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য তারা পদক্ষেপ শুরু করেছে। স্কুলের মেরামত এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে বলে জানিয়েছে সে রাজ্যের সরকার। অন্য দিকে যে স্কুলগুলির নিজস্ব ভবন নেই বা যে ভবনগুলির জরাজীর্ণ অবস্থা হয়ে গিয়েছে, সেগুলির নতুন ভবন তৈরি করতে ৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলন প্রত্যাহারের পর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি স্কুলগুলিতে যাওয়া শুরু করেছেন ককরোচ নেতা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা। সেই কর্মসূচিতেই শুক্রবার রাঙ্কার নেতৃত্বে সিজেপির একটি দল রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের অদূরে রাম্পুরা-কানওয়ারপুরা গ্রামে যান। সেখানে হামলার মুখে পড়েন তাঁরা। তাঁদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনাচক্রে, সে দিনই রাজস্থানের বিধানসভায় স্কুল-পরিকাঠামো নিয়ে পরিসংখ্যান তুলে ধরল সরকার।