রাজস্থানে দুর্নীতির অভিযোগ উঠল আইএএস স্বামী এবং আইপিএস স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পদমর্যাদার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগও উঠেছে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে। একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থাকে বেআইনি ভাবে সুযোগ পাইয়ে দিয়ে তাদের কাছ থেকেই সস্তায় ৪০টি ভিলা এবং রিসর্ট কিনেছেন বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, যে ভিলা এবং রিসর্টগুলি কিনেছেন ওই দম্পতি, সেগুলির মূল্য বাজারদরের থেকে কম দেখিয়ে কেনা হয়।
রাজ্যের দুর্নীতিদমন শাখা শুক্রবার আমলা শিখর অগ্রবালের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। রাজ্য সরকার ওই দম্পতির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ২৮ অক্টোবর তাঁকে এপিও (অ্যাওয়েটিং পোস্টিং অর্ডার) করে রাখা হয়েছে, অর্থাৎ তাঁকে আপাতত নতুন কোনও পদে নিয়োগের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আগের দায়িত্বগুলি থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শুধু শিখরই নন, তাঁর পরিবারের অন্য সদস্য এবং আত্মীয়দের বিরুদ্ধেও তদন্ত চালানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, গোয়ল ফ্যাশনস প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি সংস্থাকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন শিখর। এই সংস্থাটির হোটেল এবং রিসর্টের ব্যবসা রয়েছে। সংস্থাটিকে নির্মাণের নিয়মে অবৈধ ভাবে ছাড় পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে আমলার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। আর সেই সুযোগে সংস্থাটির কাছ থেকে নিজের নামে, স্ত্রী, সন্তান এবং আত্মীয়দের নামে ৪০টি ভিলা কিনেছেন। তার মধ্যে উদয়পুরে রয়েছে ২০টি ভিলা। যেগুলি এক একটি ১৫ লক্ষ টাকা দামে কিনেছেন বলে অভিযোগ। আর অলওয়ারে ১৬ লক্ষ টাকা দামে আরও ২০টি ভিলা এবং রিসর্ট কেনেন বলে তদন্তকারী সূত্রের খবর।
দুর্নীতিদমন শাখার দাবি, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এই ৪০টি ভিলা এবং রিসর্ট কিনেছেন শিখর এবং তাঁর স্ত্রী। উল্লেখযোগ্য, ভিলা এবং রিসর্টগুলি যে সংস্থার কাছ থেকে কিনেছিলেন শিখর, সেই সংস্থাকেই লিজ়ে দেন সেগুলি। সূত্রের খবর, উদয়পুরের প্রত্যেক ভিলা থেকে বছরে ৪ লক্ষ টাকা এবং অলওয়ারের প্রতিটি ভিলা এবং রিসর্টপিছু বছরে ৫ লক্ষ টাকা করে পেতেন অগ্রবাল দম্পতি। সেই হিসাবে উদয়পুরের ২০ ভিলা থেকে বছরে ৮০ লক্ষ টাকা এবং অলওয়ার থেকে এক কোটি টাকা করে তুলতেন তাঁরা।
তদন্তকারীদের নজরে আমলার আইপিএস স্ত্রী প্রশাখা মাথুরও। তাঁর কত সম্পত্তি রয়েছে তা খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে। তদন্তকারী সূত্রের খবর, শিখর যখন উদয়পুরের জেলাশাসক ছিলেন সেই সময় থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের চেয়ারপার্সন পদে নিযুক্ত হন। বর্তমানে তিনি শিল্প দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব। এই পদে থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে কোন কোন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।