E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

বিরোধীদের কথা বলুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে, রিজিজুকে নির্দেশ

দু’শিবিরের ওই তরজার আবহে চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণন রিজিজুকে উদ্দেশ করে বলেন, রাজ্যসভার বিরোধীদের মনোভাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গিয়ে জানান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ অগস্ট ২০২৬ ০৮:০৮
সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু।

সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। ফাইল চিত্র।

কিছুটা ব্যতিক্রমী পদক্ষেপে আজ বিরোধীদের বক্তব্য, তাঁরা কী চাইছেন, তাঁদের মনোভাব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জানাতে কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে নির্দেশ দিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন। রিজিজুকে তিনি বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গিয়ে বিরোধীদের মনোভাব জানান।’’ এর পরেই জল্পনা শুরু হয় যে, শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের টানা সংসদের উচ্চ কক্ষে না আসা নিয়ে কি তা হলে চেয়ারম্যানও ক্ষুব্ধ?

বিতর্কের সূত্রপাত আজ বেলা বারোটা নাগাদ। গত কয়েক দিনের মতো আজও ছাত্র-বিক্ষোভ কাণ্ডে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি, রামমন্দিরে চুরির ঘটনা নিয়ে আলোচনার দাবিতে সরব হন বিরোধীরা। বিরোধী দলনেতা, কংগ্রেস সাংসদ মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেন, ‘‘বিরোধীদের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য আজ ফের দাবি করা হচ্ছে। আমরা চাই, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবেআপনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিবৃতি দেওয়ার নির্দেশ দিন।’’

খড়্গের বক্তব্যে প্রবল বাধা দেয় শাসক শিবির। দু’শিবিরের ওই তরজার আবহে চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণন রিজিজুকে উদ্দেশ করে বলেন, রাজ্যসভার বিরোধীদের মনোভাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে গিয়ে জানান। রাধাকৃষ্ণন বলেন, ‘‘আমি আপনাকে (রিজিজু) খড়্গের অনুরোধ খতিয়ে দেখার জন্য বলছি। উনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে রাজ্যসভায় আসার অনুরোধ করেছেন। সংসদীয় মন্ত্রী হিসাবে আপনার কাজ হল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সেই বার্তা জানানো।’’ বিরোধীদের মতে, ওই বার্তা দিয়ে রাধাকৃষ্ণন আজ কার্যত সরকারকে সতর্ক করে দিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে। পরে সংসদের বাইরে খড়্গে বলেন, ‘‘আগে অমিত শাহ আসবেন, তার পরে আলোচনা হবে। স্পিকার বা চেয়ারম্যান হিসেবে যতটা সম্ভব বার্তা দেওয়া সম্ভব, তা আজ দিয়েছেন রাধাকৃষ্ণন। বাকিটা সরকারের হাতে।’’

সরকার লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিলটি এ যাত্রায় সংসদে নিয়ে আসতে বদ্ধপরিকর হলেও সংবিধান সংশোধনকারী বিল পাশ করাতে গেলে যে সংখ্যক সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন, তা এখনও তাদের কাছে নেই। রফাসূত্র খুঁজতে গত কালের মতো আজও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন রিজিজু। গত কাল মুখোমুখি কথা বলার পরে আজ ফোনে কথা হয় দু’জনের। তাতে রাহুল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগে সরকারকে পড়ুয়াদের উপরে পুলিশি জুলুম নিয়ে বিবৃতি দিতে হবে, রামমন্দিরে চুরি নিয়ে আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে, তবেই বিল নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি বিরোধীদের পক্ষ থেকে সরকারকে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে সবার সঙ্গে কথা বলার উপরেও জোর দেন রাহুল। যদিও রিজিজুর দাবি, ‘‘ইতিমধ্যেই প্রায় সব দলের সঙ্গে কথা হয়ে গিয়েছে সরকারের। কংগ্রেস বাকি ছিল। তাই এখন তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।’’

সরকার শেষ মুহূর্তে বিল আনা নিয়ে আশাবাদী হলেও রাজনীতিকদের মতে, তৃণমূলকে ভাঙানো, ডিএমকে-কে পাশে পাওয়ার পরেও মোদী সরকারের হাতে এখনও ১৪ জন সাংসদের সমর্থন কম আছে। ফলে সে ক্ষেত্রে আরও বেশ কিছু বিরোধী দলকে পাশে পেতে হবে সরকারকে। যা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে মরিয়া সরকারও। কারণ তারা বুঝতে পারছে, চলতি বাদল বা আগামী শীতকালীন অধিবেশনে এই বিলটি পাশ না হলে ২০২৯ সালেরআগে নতুন লোকসভা কেন্দ্রগুলির সীমানা পুনর্বিন্যাস করে ভোট করা সম্ভব হবে না।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Rajya Sabha

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy