রামমন্দিরের প্রণামী চুরির ঘটনা একটি ‘লজ্জাজনক অধ্যায়’ এবং ‘এই কলঙ্কের জন্য’ তাঁরা ‘অপমানিত বোধ করেছেন’। অযোধ্যায় আজ এই মন্তব্য করেছেন রামমন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র। তবে চুরি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এখনও নীরব কেন, তা নিয়ে আজ প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
রামমন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনা নিয়ে দেশ জুড়ে সমালোচনার মধ্যেই গত কাল থেকে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। সেই কারণেই অযোধ্যায় এসেছেন নৃপেন্দ্র মিশ্র। দ্বিতীয় দিনের বৈঠকের আগে তিনি আজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘প্রণামী চুরি নিয়ে যা হয়েছে, তা একটা লজ্জাজনক অধ্যায়। আমরা শুধুমাত্র ক্ষমাপ্রার্থী নই, বরং খুবই অপমানিত বোধ করছি।’’ এ দিকে, রামমন্দিরের চুরি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এখনও চুপ কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে তদন্তেরও দাবি তুলেছেন। পাশাপাশি, তিনি জানিয়েছেন, সংসদের আসন্ন অধিবেশনে অযোধ্যায় চুরির ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর জবাব চাইবে কংগ্রেস। বেণুগোপালের দাবি, গত ২০-২৫ বছর ধরে ভিএইচপি বা আরএসএস মন্দিরের নামে অর্থ সংগ্রহ করে আসছে। তাঁর অভিযোগ, সেই টাকা ও সোনা লুট হয়ে গিয়েছে।
চুরির পরে রামমন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামো বদলের বিষয়টি এখন আলোচনায় উঠে আসছে। মিশ্র আজ বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটতে পারে, সেই জন্য মন্দিরের প্রশাসনিক উন্নতি ঘটাতেই হবে।’’ মন্দির পরিচালনায় সিইও নিয়োগ করার প্রস্তাব শুরুতে তিনিই দিয়েছিলেন। মিশ্র জানান, সিইও কে হবেন, সেই নাম প্রস্তাব করতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনও মহিলাকে ওই পদে বসানো হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। মিশ্র অবশ্য তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর কথায়, ‘‘অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন। তাঁরাই ট্রাস্টের সামনে প্রস্তাব রাখবেন।’’ মন্দিরের ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চম্পত রাইয়ের ইস্তফা গৃহীত হওয়ার পরে আগামী ২২ জুলাই ট্রাস্টের বৈঠক বসতে চলেছে। চুরির ঘটনার প্রেক্ষাপটে রামমন্দিরের পরিচালন ব্যবস্থার উন্নতির বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মিশ্র জানান, বৈঠকে কী নিয়ে আলোচনা হবে, সে ব্যাপারে তাঁর কোনও ধারণা নেই।