অযোধ্যায় রামমন্দিরের নিরাপত্তায় এ বার কড়াকড়ি। মন্দিরের প্রণামী গণনার সময় টাকা সরানোর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে এ বার মন্দিরের সমস্ত কর্মীর ১০০ শতাংশ পুলিশি ভেরিফিকেশন করানোর সিদ্ধান্ত নিল প্রশাসন।
পিটিআই জানিয়েছে, ট্রাস্টের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি কর্মীর পারিবারিক তথ্য থেকে শুরু করে তাঁদের আত্মীয়স্বজনের বিস্তারিত বিবরণ জমা দিতে হবে। পাশাপাশি, পুলিশের দেওয়া ‘ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট’ বা চরিত্র শংসাপত্র জমা করাও এখন থেকে বাধ্যতামূলক।
গত জুন মাসে রামমন্দিরে প্রণামী চুরির বড়সড় চক্র ধরা পড়ে, যা মন্দির প্রশাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়। ওই ঘটনায় আট জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। অভিযুক্তেরা প্রত্যেকেই বর্তমানে জেলে বন্দি। গত সপ্তাহেই ওই চুরির মামলায় ৭০ হাজার পাতার এক বিশাল চার্জশিট পেশ করেছে পুলিশ। আর এর পরেই নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও সুরক্ষিত করতে তৎপর হয়ে উঠেছে মন্দির প্রশাসন।
শুধু কর্মীদের উপর নজরদারিই নয়, মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামোতেও এসেছে রদবদল। গত মাসে মন্দিরের নতুন চিফ এগ্জ়িকিউটিভ অফিসার পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র। মূলত তাঁর নেতৃত্বেই কর্মীদের এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অন্য দিকে, মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামোর খোলনলচে বদলাতে ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং সদস্য অনিল মিশ্র ও গোপাল রাওকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ট্রাস্টের এই কড়া পদক্ষেপের প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য দীনেন্দ্র দাস জানিয়েছেন, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত সকলেই মেনে নেবেন। তিনি বলেন, “ট্রাস্ট যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তা সর্বজনগ্রাহ্য হবে। পুজোপাঠ সুচারু ভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে, অনুদানও ঠিকমতো আসছে এবং প্রচুর ভক্ত প্রতিদিন দর্শন ও আরতিতে যোগ দিচ্ছেন।” মূলত কর্মীদের উপর নজরদারি বাড়ানো এবং ভক্তদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবেই এই সামগ্রিক প্রশাসনিক রদবদল বলে জানিয়েছে ট্রাস্ট।