প্রায় এক মাস হতে চলল, এনসিপিআই-কে এনডিএ-র শরিক দল হিসেবে মান্যতা দেওয়ার জন্য তৃণমূলের বিদ্রোহী কুড়ি জন সাংসদ আবেদন করে রেখেছেন। কিন্তু সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত বিষয়টি বিবেচনাধীন। রাজনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে অন্য একটি সম্ভাবনার কথা। এনসিপিআই-এর এই সাংসদদের সরাসরি বিজেপি-তে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে বলে খবর। আগামী বৃহস্পতিবার দিল্লিতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার এনসিপিই সাংসদদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে বলে জানা গিয়েছে।
এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পরই সুদীপ, কাকলিরা প্রথমেই লোকসভায় পৃথক ব্লক এবং নিজস্ব সংসদীয় অফিস চেয়েছিলেন। কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল তাঁদের আসনের নম্বর বদলে প্রথম দিকে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র। অর্থাৎ, তৃণমূলের সঙ্গেই তাঁদের বসার ব্যবস্থা রইল এখনও পর্যন্ত। গতকাল তৃণমূলের এক সাংসদ গিয়ে কথা বলায়, স্পিকার ওম বিড়লা আশ্বাস দেন, কিছু দিন পরই তাঁদের আসন বদলে দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক সূত্রের মতে, এনসিপিআই-কে পৃথক শরিক না রেখে বিজেপি-র সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার ভাবনার পিছনে কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এনসিপিআই নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্ত দল হলেও সংসদীয় উপস্থিতি নেই। অন্য প্রতীকে জিতে আসা ২০ জন সাংসদকে এই দলের স্বীকৃতি দিয়ে দিলে, দশম তফসিল অনুযায়ী তার আইনি ভিত্তি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। এমনিতেই গত মাসে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে এই কুড়ি জনের সদস্যপদ খারিজের জন্য কুড়িটি পৃথক পিটিশন জমা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পিকারের অফিস সূত্রের বক্তব্য, দশম তফসিলের ব্যাখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম রায় রয়েছে আদালতের। সেগুলি দেখে স্পিকার সিদ্ধান্ত নেবেন। ফলে ভবিষ্যতে আদি তৃণমূল আদালতে যাবে ধরে নিয়েই এই ২০ জন সম্পর্কে কিছুটা পাকাপোক্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাওয়া হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তাঁরা একটি ছায়া দলের সাংসদ না হয়ে যদি সরাসরি বিজেপি-তে যোগ দেন (বিদ্রোহীদের সংখ্যা এমনিতেই দুই-তৃতীয়াংশের বেশি) তা হলে বিষয়টি পাকাপোক্ত হয়।
যেমন শিবসেনা (শিন্দে) একটি সংসদ স্বীকৃত দল, তাই উদ্ধবপন্থী শিবসেনা থেকে ৬ জন সাংসদকে সরাসরি শিন্দেপন্থী দলে অন্তর্ভুক্তি অনুমোদন করেছেন স্পিকার। তাতেও আজ সুপ্রিম কোর্টে উদ্ধবপন্থী শিবসেনার আইনজীবী এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একটি স্বীকৃত দল থেকে অন্য স্বীকৃত দলে অন্তর্ভুক্তি নিয়েই যদি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়, তা হলে তৃণমূল থেকে এনসিপিআই-এর মতো অজ্ঞাতকুলশীল দলে এত সাংসদের অন্তর্ভুক্তি অবশ্যই আরও বড় প্রশ্নের মুখে পড়বে আদালতে।
এনসিপিআই-এর সাংসদদের সরাসরি বিজেপি-তে অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হলে, বিজেপি-র সাংসদ সংখ্যা এক লাফে ২০টি বেড়ে যাবে। আবার শরিক দল হিসেবে এনসিপিআই থাকলে, সমর্থন সংক্রান্ত অনেক দেনাপাওনার বাধ্যবাধকতা থাকবে। নিজের দল হলে যা থাকবে না। তবে এনসিপিআই শরিক হিসেবেই থাকুন অথবা বিজেপি-তে অন্তর্ভুক্তি, মোদী-শাহ তাঁদের কী ভাবে রাজনৈতিক মর্যাদা দেন তা নিয়ে চর্চা চলছে।
এ দিন এনসিপিআই-এর পক্ষ থেকে দিল্লির রাজঘাটে ২১ জুলাই পালন করেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি দস্তিদারেরা। আজ তাঁদের নেতৃত্বে ১২ জন সাংসদ রাজঘাটে পৌঁছন। সেখানে শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে তিরানব্বইয়ের ‘শহিদ’দের শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। কাকলির কথায়, ‘‘শহিদ তো কার্গিলের যোদ্ধারাও, শহিদ তো মহাত্মা গান্ধীজিও। রাজঘাটে যখন আমরা শহিদ স্মরণ করছি, সবাইকেই শ্রদ্ধা জানাই।’’