বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে কিছু দিন আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের বিরুদ্ধে জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছিল। এ বার সেই রাজ্যেই ১,১৬০ কোটি টাকার ইথানল-চাল কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠল।
ইথানল তৈরির জন্য খাদ্য নিগমের (এফসিআই) ভর্তুকির চাল বেসরকারি চালকলকে বেচে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য পুলিশের এসআইটি তদন্ত শুরু করেছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বিজেপিকে নিশানাকরে বলেছেন, ‘‘মধ্যপ্রদেশ আজ বিজেপি সরকারের দুর্নীতি ও লুঠের গড় হয়ে উঠেছে। একটা দুর্নীতি শেষ হতে না হতেই আরেকটা সামনেচলে আসে।’’
কেন্দ্রীয় সরকার পেট্রলে মেশানোর ইথানল তৈরির জন্য অতিরিক্ত খাদ্যশস্য কাজে লাগানোর নীতি নিয়েছে। সেই নীতি মেনেই যে চাল সরকার ৩,৯০০ থেকে ৪,০০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল দরে কিনে মজুত করে, তা ইথানল প্রস্তুতকারী সংস্থাকে ২,৩২০ টাকা প্রতি কুইন্টাল দরে ভর্তুকিতে বিক্রি করা হয়। তবে এ কাজে পুরনো, ভাঙা চাল ব্যবহার করার কথা। মধ্যপ্রদেশে শিশু, গর্ভবতী মহিলাদের বিলির জন্য রাখা এফসিআই গুদামের বিশেষ পুষ্টিগুণ-যুক্ত প্রায় ৫ লক্ষ টন চাল বেসরকারি চালকলের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। কারণ, ইথানল প্রস্তুতকারী সংস্থা বাজার থেকে সস্তায় চাল কিনে সরকারি চাল বেসরকারি চালকলের মালিকদের কাছে বেচে দিয়েছে। চালকল মালিকরা আবার তা নতুন বস্তায় ভরে এফসিআই-এর কাছে বেশি দামে বেচে দিয়েছে। সরকারি গুদামের চাল সরকারি গুদামেই ফিরে এসেছে। মাঝখান থেকে সকলে লাভের গুড় খেয়েছে।
বিজেপির দাবি, পুলিশের এসআইটি চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। এক ডজন ট্রাক আটক করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রেও অযোধ্যায় রামমন্দিরের প্রণামী চুরির কেলেঙ্কারির মতো রাঘববোয়ালদের আড়াল করে চুনোপুঁটিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কংগ্রেস সভাপতি খড়্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে বলেন, ‘‘এর আগে মধ্যপ্রদেশে জমি কেলেঙ্কারিতে দেখা গিয়েছে, যেখানে সরকার মহাকাল করিডর, পরিকাঠামো জাতীয় সড়ক হবে বলে ঘোষণা করেছে, সেখানে আগেভাগেই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী ও পরিবারের লোকেরা জমি কিনে রেখেছিলেন। এ বারও মোদীজি মুখে কুলুপ এঁটে বসে রয়েছেন। মোদী-শাহের জমানায় ক্ষমতার অহঙ্কারে জবাবদিহি মাটিতে মিশে গিয়েছে।’’