রাস্তা সারানোর কাজ করার সময় বেলাগাম গতিতে ধেয়ে আসা গাড়ির তলায় চাপা পড়লেন অন্তত ২০ জন শ্রমিক। আট জন প্রাণ হারিয়েছেন। বাকিরা গুরুতর জখম হয়েছেন। ঘটনাস্থল পঞ্জাবের সংগরূর জেলার জখাল রোড।
মৃত শ্রমিকদের মধ্যে ছ’জন মহিলা। তাঁদের নাম কর্মজিৎ কউর, সর্বজিৎ কউর, রঞ্জিত কৌর, কর্মজিৎ এবং রানি কউর। মৃত পুরুষ শ্রমিকদেরও শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন জীবন সিংহ এবং দেশ রাজ। মৃত সাত শ্রমিক একই গ্রামের। পাঁচ জন অকুস্থলে মারা যান। দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ছোটিয়াঁ গ্রামে জখাল সড়ক সংস্কারের কাজ চলছিল। ২০ জনের বেশি শ্রমিক সেখানে ছিলেন। দ্রুত গতিতে যাওয়া একটি সেডান গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে চলে যায়। একে একে ২০ জনকে চাপা দেয় গাড়িটি। অভিযুক্ত গাড়িচালকের নাম পরগত সিংহ কালা। স্থানীয় বাসিন্দা তিনি। দুর্ঘটনার পরপরই গাড়ি ফেলে পালিয়ে যান ওই ব্যক্তি। হরবিন্দ্র সিংহ নামে এক যুবক কারখানার কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর চোখের সামনে ওই দুর্ঘটনা হয়েছে। তিনি জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ এবং আর্ত চিৎকার শুনে চমকে যান। দৌড়ে গিয়ে ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখেন। গাড়িচাপা পড়া সকলেই কেন্দ্রীয় সরকারের ভিবি জি-রামজি প্রকল্পের কাজ করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, অন্তত ২৩ জন জখম হয়েছিলেন। আর এক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, রাস্তায় স্রেফ পড়ে পড়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ জনের। তিনি বলেন, ‘‘অ্যাম্বুল্যান্সের অপেক্ষা করতে করতেই সময় চলে গেল। আর একটু আগে যদি পুলিশ-প্রশাসনের কেউ আসতেন। চোখের সামনে রক্তাক্ত মানুষগুলোকে ছটফট করতে করতে মরতে দেখলাম!’’
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্ঘটনাস্থল থেকে থানার দূরত্ব বেশি নয়। পুলিশ আসার মিনিট পনেরো আগে অভিযুক্ত গাড়িচালক পালিয়ে যান। ওই ঘটনার পর রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বাসিন্দারা। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেফতারির দাবি এবং মৃতদের পরিবারকে সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলেছেন। পঞ্জাবের মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক বারিন্দ্রকুমার গোয়ল শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সাহায্য প্রদান করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, কী ভাবে এমনটা ঘটল, তার তদন্ত শুরু হয়েছে। পলাতক চালকের খোঁজে নানা জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে তারা।