যন্তর মন্তরে বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের অন্যতম দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ওই দাবির সঙ্গে সহমত না হলেও, যে ভাবে সোমবার দিল্লি পুলিশ রণং দেহি ভঙ্গিতে চড়াও হয়েছিল, সেটা ঠিক হয়নি বলে মনে করছেন আরএসএস নেতৃত্ব। সঙ্ঘের মতে, আলোচনার মাধ্যমে বিক্ষুব্ধ পড়ুয়াদের কাছে পৌঁছনোর যে পদক্ষেপ সরকার করছে, তা কয়েক দিন আগে করলে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হত।
সোমবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সংসদ অভিযানের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গোড়ায় শান্তিপূর্ণ থাকলেও পরের দিকে বিক্ষোভকারীদের উপরে লাঠিচার্জ করা হলে আহত হন একাধিক পড়ুয়া। অনেকে এখনও হাসপাতালে। বিরোধী দলের কর্মীদের মতো করে পড়ুয়াদের লাঠিপেটার দৃশ্য অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল বলেই আরএসএস-এর মত। যুবসমাজের কাছে এতে নেতিবাচক বার্তা গিয়েছে। সেটা ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের আগে দলের জন্য অশনি সঙ্কেত বলে মনে করছেন খোদ বিজেপি ও শরিক দলের নেতারা।
আরএসএস নেতৃত্বের ব্যাখ্যা, নিটের প্রশ্ন ফাঁস, সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র দেখা নিয়ে গোলমালের মতো ঘটনায় ভুগতে হয়েছে পড়ুয়াদের। তাদের মধ্যে ক্ষোভ থাকাটাই স্বাভাবিক। সেই ক্ষোভ দূর করতে সরকারের অনেক আগে আলোচনায় বসা উচিত ছিল। তা হলে পরিস্থিতি এ ভাবে হাতের বাইরে যেত না। তবে আরএসএস শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণ নিয়ে মন্তব্য করার পক্ষপাতী নয়। সূত্রের মতে, এক বার প্রধানকে সরানোর দাবি মানা হলে রক্তের স্বাদ পাবে বিরোধীরা। তাই এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সরকারের উপরে ছাড়া হয়েছে।
কিন্তু ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল অবধি ধারাবাহিক ভাবে নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ব্যাপারটাও ভাল ভাবে নিচ্ছেন না আরএসএস নেতৃত্ব। তাই পরীক্ষা-পদ্ধতি পাল্টে ফেলা ছাড়াও সর্বভারতীয় পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা জাতীয় টেস্টিং এজেন্সি-র (এনটিএ) খোলনলচে বদলানোর সওয়াল করা হয়েছে সঙ্ঘের পক্ষ থেকে। যদিও বিরোধীদের পাল্টা অভিযোগ, যাবতীয় শিক্ষা সংক্রান্ত সংগঠনের শীর্ষ পদে সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠরাই রয়েছেন। ফলে এনটিএ-র ব্যর্থতার দায় পরোক্ষে এড়াতে পারেন না তাঁরাও।
এ দিকে গত সোমবার পড়ুয়াদের আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে ওঠার পিছনে বিদেশি শক্তি বা ডিপ স্টেটের হাত ছিল বলে সরব হয়েছে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বীরেন্দ্র সিংহ সোলাঙ্কি বলেন, ‘‘ভারতের ঐক্য, অখণ্ডতা ও সামাজিক সম্প্রীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় কোনও শক্তির লক্ষ্যপূরণে ছাত্রশক্তিকে ব্যবহার হতে দেওয়া যায় না। এ ধরনের প্রচেষ্টা পরোক্ষে ডিপ স্টেট-এর হাত মজবুত করে।’’ সংগঠন তাই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়েছে।