E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

চোখ রামমন্দিরে, ভোট পাখির চোখ অখিলেশের

তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের জন্য সংরক্ষিত ৮৬টি আসনের বাইরেও দলিত ভোট অধ্যুষিত অসংরক্ষিত আসনে তফসিলি প্রার্থী দেওয়া হবে।

অগ্নি রায়

শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ০৭:৪৬
অখিলেশ যাদব।

অখিলেশ যাদব। — ফাইল চিত্র।

রামমন্দিরে অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনা উত্তরপ্রদেশের আসন্ন ভোটের ময়দানে যে রাজনৈতিক সুযোগ এনে দিয়েছে, তা নিয়ে কালবিলম্ব করতে চাইছে না অখিলেশ যাদবের দল এসপি। যত দ্রুত সম্ভব তা নিয়েসর্বাত্মক প্রচারে ঝাঁপানোর কথাভাবছে তারা। পাশাপাশি পিডিএ (পিছড়ে বর্গ, দলিত এবং অল্পসংখ্যক)-র ভিত্তিতে কোন বর্গ কোথায় বেশি শক্তিশালী, তা নিয়েও আসনভিত্তিক সমীক্ষা চলছে। সূত্রের খবর, বেশি দেরি না করে বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার পর এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যের অন্তত আড়াইশো থেকে তিনশো আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে দেওয়ার কথা ভাবছেন এসপি শীর্ষ নেতৃত্ব। কংগ্রেসকে কিছুটা সময় দেওয়া হচ্ছে, তারা কতগুলি আসনে এবং কিসের ভিত্তিতে দাঁড়াতে চাইছে তা জানার জন্য। কিছু আসন তাদের ছাড়া হতে পারে আলোচনার ভিত্তিতে। তবে তা কখনওই পঞ্চাশের বেশি নয়।

আরও একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানাচ্ছে এসপি সূত্র। তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের জন্য সংরক্ষিত ৮৬টি আসনের বাইরেও দলিত ভোট অধ্যুষিত অসংরক্ষিত আসনে তফসিলি প্রার্থী দেওয়া হবে। এই রকম ১৪টি আসন এখনই চিহ্নিত করা হয়েছে বলে খবর। মায়াবতীর নেতৃত্বাধীন বিএসপি যখন ক্রমশ দুর্বল ও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশেরে রাজনীতিতে, তখন এসপি-র লক্ষ্য আরও বেশি করে দলিত ভোটব্যাঙ্কের কাছে পৌঁছানো, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। দলিত সম্প্রদায়ের নেতা তথা এসপি-র রাজ্যসভার সাংসদ রামজীলাল সুমন জানিয়েছেন, “আমাদের সম্প্রদায়ে বিজেপি বিরোধী আবেগ বাড়ছে। তাঁরা আরএসএস এবং বিজেপি-র ভিতরের লুকোনো দলিত-বিরোধী মানসিকতা বুঝতে পারছেন। তাদের মনুবাদী কর্মসূচির মাধ্যমেই যা প্রতিভাত।”

উত্তরপ্রদেশের জনসংখ্যার ২১ শতাংশ দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত। একটা সময়ে তা বিএসপি-র প্রধান ভোটব্যাঙ্ক ছিল। কয়েক বছর আগে থেকে তা বদলাতে শুরু করেছে। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মায়াবতীর দল ১৭টি আসন পেয়েছিল। ২০২২ সালে তা একটিতে নেমে আসে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে যায় মায়াবতীর আর জনভিত্তি নেই। দলিত সম্প্রদায় তাঁকে ছেড়ে গিয়েছে। সেই নির্বাচনে বিএসপি একটি আসনও জিততে পারেনি।

এসপি-র সহ-সভাপতি কিরণময় নন্দর কথায়, ‘‘এ বার আর সংরক্ষিত আসন বলে কোনও বিষয় নেই। যে অঞ্চলে যে বর্গের মানুষের প্রতিনিধিত্ব বেশি, আমরা সেখানে সেই বর্গেরই প্রতিনিধিকে দাঁড় করাব। এক দিন আগেই এই নিয়ে লখনউয়ে বৈঠক হয়ে গেল। পাশাপাশি এটাও ঠিক হয়েছে, খুব বেশি অপেক্ষা করা হবে না প্রার্থী তালিকার জন্য। ২০১৭ সালে দলে অভ্যন্তরীণ নানা গন্ডগোল ছিল। তালেগোলে কংগ্রেসকে দেওয়া হয়ে গিয়েছিল ১০৫টি আসন। কিন্তু দেখা যায় তারা জিতেছে মাত্র পাঁচটিতে। এ বারে ওরাই বলুক ক’টায় লড়তে চায় এবং সেখানে তাদের সাংগঠনিক শক্তি কী রকম। তবে বেশি দিন আমরা কংগ্রেসের জন্য অপেক্ষা করব না। উত্তরপ্রদেশে এখন লড়াইটা সরাসরি বিজেপি-র সঙ্গে এসপি-র। আর কেউ কোথাও নেই। বিজেপি-ওসেটা জানে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Samajwadi Party Akhilesh Yadav

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy