Advertisement
E-Paper

‘যন্তর মন্তরে ঢুকলেন কেন? অশান্তি হলে সামলাতেন?’ অন্য দেশের প্রসঙ্গ টেনে সৌরভ ও রাঙ্কাকে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর গত ১৩ অক্টোবর সৌরভ, রাঙ্কা এবং তাঁদের সঙ্গে কিছু সিজেপি সমর্থক লোহার গেট টপকে সেখানে ঢুকেছিলেন। এই আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১৪:১১
সিজেপি নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা।

সিজেপি নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। —ফাইল চিত্র।

যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরকার বাদ দিয়ে দেওয়ার পরেও কেন সেখানে ঢুকেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা? বুধবার শুনানিতে সেই প্রশ্নই তুললেন দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি সুব্রমনিয়ম প্রসাদ। সিজেপি নেতাদের আচরণের জন্য ভর্ৎসনা করেছেন তিনি। অন্যান্য দেশে ছাত্রবিক্ষোভ থেকে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের অশান্তি দানা বেঁধেছে, কী ভাবে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গিয়েছে, তা-ও উল্লেখ করেছেন।

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দেওয়ার পর গত ১৩ অক্টোবর সৌরভ, রাঙ্কা এবং তাঁদের সঙ্গে কিছু সিজেপি সমর্থক লোহার গেট টপকে সেখানে ঢুকেছিলেন। জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা। পুলিশ প্রত্যেককে আটক করে। রাঙ্কা এবং সৌরভকে পূর্ববর্তী বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। প্রথমে স্পেশাল এগ্‌জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে তার মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়। হেফাজতের এই মেয়াদ বৃদ্ধিকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সিজেপি দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। বুধবার তার শুনানিতে বিচারপতি প্রসাদের পর্যবেক্ষণ, যে কোনও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পুলিশের অনুমতির উদ্দেশ্য শুধু বিক্ষোভকারীদের আটকানো নয়, বরং অন্যদেরও আটকানো। যাতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অন্যেরা যোগ দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন।

সৌরভ এবং রাঙ্কার উদ্দেশে বিচারপতি প্রসাদের মন্তব্য, ‘‘আপনারা একটা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেই আপনারাই যখন ব্যারিকেড ভাঙছেন, আপনাদের সমর্থক এবং অনুগামীরাও তা করতে পারেন। সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়। এমনও লোকজন সেখানে থাকতে পারেন, যাঁরা আপনাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তখন কী ভাবে সামলাবেন?’’ অন্য দেশের প্রসঙ্গ চেনে বিচারপতি আরও বলেন, ‘‘আমরা দেখেছি এই জিনিস দেশের বাইরেও হয়েছে। ছাত্রবিক্ষোভ দিয়ে যেটা শুরু হয়েছিল, তা পরে অশান্ত হয়ে উঠেছে। লোকজন দিকে দিকে অগ্নিসংযোগ করছেন, বাড়িঘর ভাঙচুর করছেন।’’ তবে কোনও দেশের নাম আদালত উল্লেখ করেনি।

শান্তি ভঙ্গ না করার শর্তেই রাঙ্কা, সৌরভ এবং সিজেপি প্রধান অভিজীত দিপকে-কে জামিন দেওয়া হয়েছিল। সেই শর্ত কেন লঙ্ঘন করেছেন, প্রশ্ন তোলে আদালত। দু’জনের বয়স জানতে চান বিচারপতি। এক জনের বয়স ২৭ এবং অন্য জনের বয়স ৩১ শুনে তাঁর মন্তব্য, ‘‘তাহলে তো আপনারা জেন জ়ি (এটি আদতে মার্কিন বিপণন সংস্থার তৈরি করা সংজ্ঞা, ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মানো প্রজন্মকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়) নন। প্রথমে এটা ছাত্রবিক্ষোভ ছিল। তরুণরা যোগ দিয়েছিলেন। এখন তা অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। মানুষগুলো একই আছে, কারণ পাল্টে গিয়েছে।’’

Delhi High Court CJP Saurav Das Cockroach Janta Party Ashutosh Ranka

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy