জেন জ়ি-র প্রতিবাদ আন্দোলনের পরে এ বার পরবর্তী প্রজন্ম জেন আলফারাও পথে নামছে একাধিক রাজ্যে। তাদের দাবি, উন্নত রাস্তা, ভাল স্কুল এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক পরিষেবা।এই আবহে ককরোচ জনতাপার্টি এ বারের স্বাধীনতা দিবসে‘স্কুল ঠিক করো’ নামে একটি নতুন প্রচার অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর লক্ষ্য, গ্রামাঞ্চলের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত করার দাবি তোলা। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন।
দীপকের এই নতুন কর্মসূচির জমি তৈরি হয়েছে রাজ্যে রাজ্যে স্কুলপড়ুয়াদের আন্দোলনকে ঘিরে। গত মাস থেকে বিভিন্ন এলাকায় স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে সরব হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরে গত ১১ অগস্ট একদল স্কুলপড়ুয়া তাদের স্কুলে যাওয়ার জন্য একটি পাকা ও উপযুক্ত রাস্তার দাবিতে জেলাশাসকের দফতরে মিছিল করে যায়। হাতে তেরঙ্গা নিয়ে এবং স্লোগান দিতে দিতে তারা বাবা-মায়েদের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেয়। তাদের দাবি, এলাকার বাসিন্দারা আগে যে বিকল্প রাস্তাটি ব্যবহার করতেন, বন দফতর সেটিও বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে স্কুল ও আশপাশের এলাকায় যাতায়াতের পথ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, এর আগে ৩ জুলাই তারা একই দাবিতে প্রতিবাদ করেছিল। সেই প্রতিবাদের পর রাস্তায় সাময়িক ভাবে মাটি ফেলা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টি শুরু হতেই সেই রাস্তা আবার কাদায় পরিণত হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশেরই ফতেপুর জেলার কিষানপুরে আর একটি বড় ছাত্রবিক্ষোভ হয় সম্প্রতি। সরস্বতী ইন্টার কলেজের প্রায় ১৫০০ ছাত্রছাত্রী গত ২৮ জুলাই চার ঘণ্টার শান্তিপূর্ণ অবস্থান-বিক্ষোভে বসে। তাদের দাবি ছিল পরিষ্কার পানীয় জলের ব্যবস্থা, খারাপ হয়ে যাওয়া পাখাগুলি সারানো, শ্রেণিকক্ষের পরিকাঠামো মেরামত এবং সঠিক ভাবে মিড-ডে মিল সরবরাহ করা। এই অবস্থান-বিক্ষোভের জেরে জেলা শিক্ষা দফতরের আধিকারিক এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক তড়িঘড়ি কলেজে পৌঁছে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন যে, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে চারটি করে পাখা বসানো হবে, একটি পরিস্রুত ঠান্ডা জলের মেশিন বসানো হবে, বৈদ্যুতিক তার মেরামত করা হবে এবং নিকাশি ও পরিচ্ছন্নতার সমস্যা সমাধানকরা হবে।
রাজস্থানের বারমেরে পড়ুয়ারা সম্প্রতি তাদের সরকারি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান-বিক্ষোভ করে। তাদের দাবি, স্থায়ী ভাবে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে পর্যাপ্ত অস্থায়ী শিক্ষক মোতায়েন করতে হবে। জালোরের মেগলওয়া গ্রামেও পড়ুয়াদের অভিযোগ, একাধিক পদ দীর্ঘ দিন ধরে খালি থাকায় বেশ কিছু বিষয় পড়ানোর জন্য কোনও শিক্ষক নেই।জয়পুরে মূক-বধির শিক্ষার্থীরাওস্কুলের নিম্নমানের পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হয়। উত্তরাখণ্ডের দেহরাদূনে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর দি এম্পাওয়ারমেন্চ অব পার্সনস উইথ ভিস্যুয়াল ডিজ়এবিলিটিজ়-এর দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীরা এই মাস থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসের সুযোগ-সুবিধার উন্নতি, আর্থিক সহায়তা এবং একজন স্থায়ী পরিচালক নিয়োগ।
বিহারের গয়া জেলার সিমুয়ারা মিডল স্কুলের ৪০ জনেরও বেশি পড়ুয়া গত ৩০ জুলাই তিকাড়ি সাব-ডিভিশনাল অফিসে মিছিল করে যায়। স্কুলের দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং সুযোগ-সুবিধার অভাবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতেই তাদের মিছিল। তারা অভিযোগ করে, স্কুলে নিম্ন মানের মিড-ডে মিল দেওয়া হয়, হাতপাম্পটি নষ্ট হয়ে গিয়েছে, শৌচাগার অপরিষ্কার এবং খেলাধুলোর সরঞ্জাম নেই। তিকাড়ির এসডিএম স্কুলের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন, পাঁচ দিনের মধ্যে সমস্ত সমস্যা সমাধান করতে হবে। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য রিপোর্ট জমা দিতে তিনি একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করেন।
মধ্যপ্রদেশের সিরোঁজে বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে কয়েক ডজন স্কুলছাত্রী রাস্তায় নেমে আসে। কন্যা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা সিরোঁজ বাসস্ট্যান্ডে জড়ো হয়ে প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে স্লোগান দেয়। তাদের অভিযোগ, বাস অপারেটররা ইচ্ছে মতো বাসভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করা কঠিন হয়ে উঠছে।
মহারাষ্ট্রের ধারাশিব জেলার সোনারি গ্রামের জেলা পরিষদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকের অভাব জানিয়ে জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিকের প্রশাসনিক দফতরের ঠিক বাইরে অনির্দিষ্ট কালের জন্য অবস্থান-বিক্ষোভে বসে।বাবা-মায়েরাও তাদের সঙ্গে প্রতিবাদে যোগ দেন।
মহারাষ্ট্রের নাগপুর গ্রামীণের খেতাপুর গ্রাম থেকেও একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। সেখানে পড়ুয়ারা সরকারি বাস পরিষেবা চালুর জন্য আবেদন জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সাইকেল নিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় প্রায়ই সাইকেলের টায়ার পাংচার হয়ে যায়। ভারী বৃষ্টির মধ্যে তাদের পুরো ৭ কিলোমিটার পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হয়।
নাসিকের ছাত্রছাত্রীরা আবার রাস্তার দুরবস্থা তুলে ধরতে একটি প্লাস্টিকের জলের বোতলকে মাইক্রোফোনের মতো ব্যবহার করে নিজেদের ‘গ্রাউন্ড রিপোর্ট’ তৈরি করেছে। ভিডিয়োটি শেয়ার করে দীপকে বলেছেন, শিক্ষার্থীরা বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, তাদের সমস্যাগুলি প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়।