Advertisement
E-Paper

বেঙ্গালুরুতে আত্মঘাতী বৈজ্ঞানিক, নিযুক্ত ছিলেন যুদ্ধবিমান প্রোগ্রামিংয়ে! কাজের চাপেই চরম সিদ্ধান্ত, দাবি পরিবারের

মৃতের নাম শরদ কটিয়ার। বেঙ্গালুরুতে এডিএ-র প্রোগ্রামিং বিভাগে কাজ করতেন। লাইট কম্ব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (এলসিএ) এমকে২-র প্রোগ্রামিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৫৬
এরোনটিকাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিতে (এডিএ) কর্মরত এই ব্যক্তি সীগেহল্লীর একটি বসতবাড়ির চারতলা থেকে ঝাঁপ দেন।

এরোনটিকাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিতে (এডিএ) কর্মরত এই ব্যক্তি সীগেহল্লীর একটি বসতবাড়ির চারতলা থেকে ঝাঁপ দেন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বেঙ্গালুরুতে আত্মঘাতী ৪৭ বছরের এক বৈজ্ঞানিক। এরোনটিকাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিতে (এডিএ) কর্মরত এই ব্যক্তি সীগেহল্লীর একটি বসতবাড়ির চারতলা থেকে ঝাঁপ দেন। পরিবারের অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত মানসিক চাপের দরুন তিনি আত্মহত্যা করেন।

মৃতের নাম শরদ কটিয়ার। বেঙ্গালুরুতে এডিএ-র প্রোগ্রামিং বিভাগে কাজ করতেন। লাইট কম্ব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (এলসিএ) এমকে২-র প্রোগ্রামিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। সীগেহল্লীর ওই বাড়িটির তিনতলায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তিনি। পরিবারের দাবি, বিগত এক মাসের বেশি সময় ধরে কাজের জায়গায় প্রচণ্ড মানসিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছিলেন। নিকটবর্তী হাসপাতালে এক মনোবিদকে দেখিয়েছিলেন। তখনই জানতে পারেন, তিনি মানসিক অবসাদের শিকার। পরিবারের আরও অভিযোগ, মানসিক অবসাদের কথা জানানোর পরেও কর্মক্ষেত্রে চাপ কমেনি।

২১ অক্টোবর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ মেন্টাল হেল্‌থ অ্যান্ড নিউরোসায়েন্স-এ (এনআইএমএইচএনএস বা নিমহ্যান্স) আরও এক মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করেন শরদ। তাঁকে কয়েকটি ওষুধ লিখে দেন ডাক্তার।

পুলিশ সূত্রের খবর, সে দিনই সন্ধে সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে শরদ চার ও পাঁচতলার মাঝের সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে পৌঁছোন। সেখানকার একটি জানলা দিয়েই লাফ মারেন। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কেএস হল্লীতে একটি হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যেরা। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৯৪ ধারায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর রিপোর্ট রুজু করে পুলিশ। ২২ অক্টোবর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে। শরদের স্ত্রী, বাবা ও মায়ের বয়ানও নেওয়া হয়। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কী কারণে আত্মহত্যা করলেন তা বিস্তারিত তদন্তে জানা যাবে।

এডিএ-র এক আধিকারিক কৃষ্ণ রাজেন্দ্র জানান, শরদ যে এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন সে সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা ওঁর বেশ কয়েক জন সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরাও এ ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। তা ছাড়া কর্মীদের স্বার্থে আমরা কিন্তু গত বছর মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অনেক সেমিনারের আয়োজন করেছিলাম।’’

তাঁর দাবি, কেবল কাজের চাপের জন্যই শরদ আত্মহত্যা করেননি। যদিও এ কথা তিনি স্বীকার করেন যে, সব ক্ষেত্রেই কাজ শেষ করার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে। ফলে কিছুটা চাপও থাকে। কিন্তু সেই জন্য কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে বাধ্য করা হয় না। কর্মীদের অফিসে আসার সময় সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ। তাঁরা বাড়ি যান সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ।

রাজেন্দ্র আরও জানান, শরদ চিকিৎসার জন্য সংস্থার কাছ থেকে কোনও আর্থিক সাহায্য চেয়েছিলেন কি না, সেই ব্যাপারে তিনি খোঁজ নিয়েছেন। তাঁর দাবি, এরকম কোনও তথ্য তাঁর চোখে পড়েনি। এই আত্মহত্যাটিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা’ বলে তিনি জানান, কর্মীরা যেন এডিএ-র আধিকারিকদের কাছে কোনওরকম সাহায্য চাইতে দ্বিধা না করেন।

Suicide Aeronautics Work Pressure

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy