E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

‘সম্পদশালীর পক্ষে বিচার’

গত শুক্রবার সপ্তদশ কে এম বশির বক্তৃতার বিষয় ছিল, ‘আমরা কি সংবিধানের যথাযথ রূপায়ণে ব্যর্থ হচ্ছি, নাকি সংবিধান আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করতে পারছে না’।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৮

—প্রতীকী চিত্র।

বিচারকদের একাংশের ‘দুর্নীতি’ এবং দেশবাসীর মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে বিচারব্যবস্থার ‘ব্যর্থতা’ নিয়ে আক্ষেপ করলেন প্রবীণ আইনজীবী দুষ্মন্ত দাভে। তাঁর ব্যাখ্যা, প্রশাসনিক ব্যবস্থার অতি-সক্রিয়তা ইন্দিরা গান্ধীর আমলের জরুরি অবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ব্যবস্থা নিজেকে যে ভাবে প্রখর শক্তিশালী করে তুলেছে, তার অন্যতম কারণ বিচারব্যবস্থার যথেষ্ট সক্রিয় না হওয়া।

গত শুক্রবার সপ্তদশ কে এম বশির বক্তৃতার বিষয় ছিল, ‘আমরা কি সংবিধানের যথাযথ রূপায়ণে ব্যর্থ হচ্ছি, নাকি সংবিধান আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করতে পারছে না’। দাভের বক্তব্য, ‘‘এই বিচারব্যবস্থায় অসাধারণ কয়েক জন বিচারপতি রয়েছেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারপতির সংখ্যা এত, যে গুনে শেষ করতে পারব না। এঁরা বিচারপ্রক্রিয়ার বিপুল ক্ষতিসাধন করেছেন।’’ দাভের অভিযোগ, এই অবস্থায় বিচারব্যবস্থা দিনে দিনে সম্পদশালী ও ক্ষমতাশালীদের দিকে ঝুঁকে চলেছে। বড় শিল্প সংস্থাগুলি ধারাবাহিক ভাবে নিজেদের পক্ষে রায় পাচ্ছে। দাভের কথায়, ‘‘প্রত্যেক দুই-তিন দিনে প্রথম সারির শিল্প সংস্থাগুলি নিজেদের পক্ষে একটি করে রায় পাচ্ছে। এ তো অবাক করার মতো ব্যাপার, কী ভাবে প্রত্যেকটি মামলায় জয়লাভকরছে এরা!’’

বিচারব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রবীণ আইনজ্ঞ। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিচারব্যবস্থা ধারাবাহিক ভাবে এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সমর্থন জুগিয়ে চলেছে, যা ক্রমাগত প্রবল পরাক্রমশালী হয়ে উঠেছে। অথচ সাধারণ মানুষকে মৌলিক অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের যথাযথ ব্যবহার করছে না। গত ১২ বছর দেশে যা ঘটছে, পরিস্থিতি সত্যিই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব, সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারা কাজে লাগিয়ে মৌলিক অধিকার কার্যকর করা। তা লঙ্ঘিত হতে দেখা সত্ত্বেও সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করতে ইচ্ছুক নয়।’’ এসআইআর-এর সমস্যা নিয়েও শীর্ষ আদালতের মনোভাবকে দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট এবং নির্বাচন কমিশনের জন্যই প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে গিয়েছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Law rich Court Justice

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy