নাগাল্যান্ডে ভূমিধসে মৃত্যু হল অন্তত চার জনের। গত কয়েক দিন ধরেই ঝড়বৃষ্টি চলছে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে। রবিবারও নাগাড়ে বৃষ্টি হচ্ছে। দুর্যোগের মাঝে সকালে হড়পা বানের জেরে ধস নামে সে রাজ্যের মন জেলায়। বিপর্যয়স্থলে আটকে পড়াদের উদ্ধারে নামানো হয়েছে সেনাও। মৃতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কোহিমা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে মন শহরে এই বিপর্যয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক ভাবে খবর, জেলার বেশ কিছু এলাকায় ভূমিধস নেমেছে। হড়পা বান এবং ভূমিধসের জেরে ১০-১৫টি বাড়ি ভেসে গিয়েছে। জেলার ডেপুটি কমিশনার ওয়েনিয়েই কোনিয়াক জানান, চার জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে আট জনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
ধ্বংসস্তূপের নীচে বেশ কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করছে উদ্ধারকারী দল। বিপর্যয়স্থল থেকে দুর্যোগ কবলিত মানুষদের উদ্ধারের জন্য এলাকায় পুলিশ, নাগাল্যান্ডের দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বেশ কিছু এলাকায় প্রচুর জল ঢুকে গিয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযানেও কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
মন জেলার পাশাপাশি মোকোকচুং জেলার তুলি মহকুমার বেশ কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তুলি মহকুমায় ধস নেমে বেশ কিছু রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নাগাল্যান্ডের কোন কোন এলাকায় ধস নেমেছে, তার সম্পূর্ণ তথ্য এখনও জানা যায়নি। মন জেলার ডিস্ট্রিক্ট প্রজেক্ট অফিসার ডব্লিউ শেজেং জানান, দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে উদ্ধারকারী দলগুলি সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। জেলার দুর্যোগ মোকাবিলাদল এখনও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সম্পূর্ণ বিবরণ পায়নি বলেও জানান তিনি।
নাগাল্যান্ড সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রবিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ মন শহরে ধস নেমেছে। তাতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রচুর সম্পত্তিও নষ্ট হয়েছে। নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফিউ রিও দুর্যোগে নিহতদের পরিবারের জন্য ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছেন। আহতদেরও প্রত্যেককে ৭৪ হাজার টাকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে খাদ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ারও ব্যবস্থা করছে প্রশাসন।