লখনউ ক্যাফের মালিক শিবা শর্মার মৃত্যু ঘিরে রহস্য বেড়েই চলেছে। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, না কি খুন করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যদিও খুনের অভিযোগ তুলেছেন শিবার মা রঞ্জনা শর্মা। কিন্তু তাঁর সেই অভিযোগকে খণ্ডন করে লিভ ইন সঙ্গী তথা মডেল শ্রদ্ধা বার বার দাবি করছেন, শিবা আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনায় তাঁর কোনও হাত নেই। তিনি নির্দোষ। প্রথমে একটি ভিডিয়ো করে এই বার্তাই দিয়েছিলেন শ্রদ্ধা। ফের সম্প্রতি আরও একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন তিনি। পুলিশের উদ্দেশে বার্তা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করার পাশাপাশি সত্য ঘটন উদ্ঘাটনে আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন।
গত ৯ অক্টোবর শিবার মৃত্যু হয়। তার পর থেকেই পলাতক শ্রদ্ধা, তাঁর বোন রশ্মি এবং গাড়িচালক আদিল। তাঁরা নেপালে রয়েছেন, সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর শ্রদ্ধাদের খোঁজে তল্লাশি জারি রেখেছে পুলিশ। শ্রদ্ধার সন্ধানে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ। সেই ঘটনার পর প্রায় ১০ দিন হয়ে গেল, এখনও হদিস মেলেনি শ্রদ্ধাদের। তাঁদের খোঁজে যখন তল্লাশি জারি পুলিশের, ঠিক সেই সময়ে নতুন এই ভিডিয়োবার্তা মডেলের। তদন্তকারী সূত্রের খবর, গ্রেফতারি এড়াতে প্রতি মুহূর্তে নিজের ঠিকানা বদলাচ্ছেন শ্রদ্ধা। ফলে এখনও তিনি পুলিশের নাগালের বাইরে।
শ্রদ্ধাকে গ্রেফতার করতে যখন মরিয়া পুলিশ, সেই সময়েই শ্রদ্ধা পুলিশের কাছে ভিডিয়োবার্তায় আবেদন জানিয়েছেন, তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। শিবার মৃত্যু কোনও হত্যা বা খুনের ঘটনা নয়। আবাসনের সিসিটিভি খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। শ্রদ্ধা আরও দাবি করেছেন, শিবার বিপুল ধারদেনা হয়ে গিয়েছিল। ১৬-১৭ লক্ষ টাকা দেনা হয়েছিল তাঁর। পাওনাদারেরা তাঁকে হুমকি দিচ্ছিলেন। বিষয়টি নিয়ে শিবা প্রচণ্ড বিচলিত ছিলেন। শ্রদ্ধার দাবি, এক মাস আগে শিবা তাঁর ফ্ল্যাটে আসেন। ছয় লক্ষ টাকার গয়না নিয়ে যান। শুধু তা-ই নয়, তিনি নিজেও শিবাকে টাকা দিয়েছিলেন।
পুলিশ এবং আদালতের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য আর্জি জানিয়েছেন শ্রদ্ধা। তাঁর যুক্তি, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে এ ভাবে দোষী বলে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর বোন রশ্মিরও কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁকেও ইচ্ছাকৃত ভাবে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ শ্রদ্ধার। কিন্তু শ্রদ্ধাকে এখনও কেন গ্রেফতার করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন শিবার মা। পুলিশের ভূমিকায় আশাহত বলেই দাবি তাঁর।