নীতীশ কুমার বিরোধী জোট ত্যাগ করায় ‘ইন্ডিয়া’ কি দুর্বল হয়েছে? এই প্রশ্নে কংগ্রেসের অন্দরে মতপার্থক্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এল। কংগ্রেস সূত্রেই এই খবর মিলেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনাচক্রে, বুধবারই দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠকে বসছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র শরিক দলগুলি। তার আগের দিন, কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক গোষ্ঠী ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নীতীশ-প্রশ্নে পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রইলেন সনিয়া গাঁধী এবং দলের প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিংহ।
আরও পড়ুন:
কংগ্রেস সূত্রে খবর, ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দিগ্বিজয় বলেন, “নীতীশ কুমারকে ‘ইন্ডিয়া’ ছাড়তে দেওয়া আমাদের উচিত হয়নি। উনি থাকলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অন্যরকম হত।” কংগ্রেসের একাংশের মতে দিগ্বিজয় দলের একাংশের ‘মনের কথাই’ তুলে ধরেছেন। কংগ্রেসের ওই অংশটি মনে করে, নীতীশের দল জেডিইউ বিরোধী জোটে থাকলে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির প্রত্যাবর্তন হত না।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, নীতীশকে নিয়ে দিগ্বিজয়ের অবস্থানকে সমর্থন করেননি সনিয়া। তিনি বলেন, “ভাগ্য ভাল যে নীতীশ কুমার সঠিক সময়ে (বিরোধী জোট) ছেড়েছেন। উনি সবসময়েই ওই দিকে (বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ) যেতে চেয়েছিলেন।” একই সঙ্গে সনিয়া জানান, বিরোধী জোট ছাড়ার জন্য নতুন নতুন উপায় খুঁজছিলেন নীতীশ। বিহারের প্রাক্তন এই মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির কথায় পরিচালিত হচ্ছিলেন বলেও দাবি করেন সনিয়া।
প্রসঙ্গত, গত লোকসভা ভোটের আগে বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছিলেন নীতীশ। সেই সময় বিহারের ‘মহাগঠবন্ধন’ (জেডিইউ, আরজেডি, কংগ্রেসের জোট)-এর শরিক ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে বিরোধী জোট ভেঙে ফের তিনি এনডিএ শিবিরে ভিড়ে যান। বিজেপির সমর্থনে নবম বারের জন্য বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।
গত লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। সরকার টেকাতে তাই অনেকাংশে নীতীশ এবং চন্দ্রবাবুর দলের উপর নির্ভরশীল ছিল পদ্মশিবির। লোকসভা নির্বাচনে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডুর টিডিপি ১৬টি আসনে জয়ী হয়, আর নীতীশের জেডিইউ ১২টি আসন পায়।