কেন্দ্র চাইছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র সঙ্গে আলোচনায় বসতে। আলোচনা চাইছে সিজেপি-ও। কিন্তু সেই আলোচনা এখনও থমকে রয়েছে। দাবি করা হচ্ছে, এর নেপথ্যে রয়েছে আন্দোলনকারীদের দুই পূর্বশর্ত। ওই জোড়া শর্ত থেকে পিছু হটছেন না বিক্ষোভকারীরা। কেন্দ্রও শর্তগুলি মানতে রাজি নয়। ফলে গোটা বিষয়টি জট পাকিয়ে রয়েছে।
সিজেপির অন্যতম দাবি— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। আন্দোলনকারীদের সমর্থনে অনশনে বসা সোনম ওয়াংচুকও সেই দাবি তুলেছিলেন। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে ‘নিউজ় ১৮’ জানাচ্ছে, ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের দাবি থেকে সরে এসেছেন সোনম। যদিও প্রকাশ্যে এমন কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। ওই সূত্রের দাবি, সোনমের নতুন অবস্থানের ফলে অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সিজেপি এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়।
সূত্রের দাবি, আলোচনা শুরুর আগে ফের দু’টি পূর্বশর্তের উপরে জোর দেন সিজেপির প্রতিনিধিরা। প্রথমত, ধর্মেন্দ্রের পদত্যাগ। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রের সঙ্গে যা কিছু আলোচনা— সব যন্তর মন্তরেই করতে হবে। সিজেপি চাইছে, আলোচনা হোক প্রকাশ্যে। তবে সরকারি সূত্রের দাবি, সিজেপির এই দুই দাবির কোনওটিই মানতে রাজি নয় কেন্দ্র। ফলে আলোচনা ঘিরে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ওই সূত্র জানাচ্ছে, কেন্দ্র আলোচনায় রাজি। তবে কোনও পূর্বশর্ত মেনে নিতে রাজি নয়। এ অবস্থায় অচলাবস্থা কাটাতে সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের পথ খোলা রাখছে কেন্দ্র। আনুষ্ঠানিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করার জন্য কোনও একটি মধ্যপন্থা খুঁজে বার করারও চেষ্টা চলছে।
গত সোমবার সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। ওই দিনই সরকারের সঙ্গে তাদের প্রথম ঘোষিত আলোচনার কথা প্রকাশ্যে আসে। সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাকে আলোচনার জন্য ডাকেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডা। চলতি সপ্তাহে হাসপাতালে গিয়ে অনশনরত সোনমের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
বুধবার অনশনের ২৫তম দিনে সোনম হাসপাতাল থেকেই নড্ডা এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে সোনম লিখেছেন, ‘‘গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সত্ত্বেও পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর বলপ্রয়োগ করেছে। আমি আশা করি, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হবে না। তাঁদের হেনস্থা করা হবে না। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি আস্থায় যেন আর আঘাত করা না হয়।’’ এর পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের উদ্দেশে সোনমের বার্তা, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এই আশ্বাস মিললে আমি আমার অনশন প্রত্যাহার করে নেব।”
এরই মধ্যে ছাত্র-যুবদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি দমনপীড়নের অভিযোগ তোলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী মোদীর লোককল্যাণ মার্গের সরকারি বাংলোর সামনে ধর্না-বিক্ষোভে বসে আটক হন রাহুল গান্ধী। বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি না-করার জন্য বিরোধীদের অনুরোধও করেছে কেন্দ্র। নড্ডা বুঝিয়ে দিয়েছেন, সরকার আলোচনায় রাজি থাকলেও তা নিয়ে রাজনীতি বরদাস্ত করবে না। বুধবার রাতে সাংবাদিক বৈঠকে নড্ডা বলেন, ‘‘সংসদে আলোচনার জন্য সরকার রাজি। কিন্তু এ নিয়ে রাজনীতি করলে তা মেনে নেওয়া হবে না।’’