বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর। এই বয়সে তিনি আর বেশি কাজ করতে পারেন না। তাই নতুন প্রজন্মের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পক্ষে গত কাল সওয়াল করেছিলেন মহারাষ্ট্রের ওই নেতা। তার পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় আসন্ন রদবদল হলে মন্ত্রী হিসেবে গডকড়ী আর থাকবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।
নিট কেলেঙ্কারি-পরবর্তী বিক্ষোভের জেরে সম্প্রতি ইস্তফা দিতে হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। পেট্রপণ্যে বাধ্যতামূলক ভাবে ইথানল মেশানোর নীতির কারণে এখন দেশবাসীর বড় অংশের প্রশ্নের মুখে নিতিন গডকড়ী। উঠেছে স্বজনপোষণের অভিযোগ। তাই অস্বস্তি এড়াতে বিজেপির একটি অংশ চায় নিতিনকে দ্রুত মন্ত্রিসভা থেকে ছেঁটে ফেলতে। এই আবহে গত কাল নাগপুরে লক্ষ্মণরাও মাঁকড় ট্রাস্টের অনুষ্ঠানে নিতিন বলেন, ‘‘আগের মতো অনেক কাজ করতে পারি না। ...তাই নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ করছি।’’ গডকড়ীর ওই বক্তব্য সামনে আসতেই জল্পনা শুরু হয় যে, তা হলে কি মন্ত্রিসভার আসন্ন রদবদলে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানোর বার্তা তাঁকে দেওয়া হয়েছে? সেই কারণেই কি আগে থেকে নিজের যুক্তি প্রস্তুত রাখলেন তিনি? বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক শিবিরে জল্পনা শুরু হওয়ায় গডকড়ীর দফতরের তরফে পরে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘নিতিন গডকড়ীজির ওই কথার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি নির্দিষ্ট ভাবে লক্ষ্মণরাও মাঁকড় ট্রাস্টের কথাই বলেছিলেন। ...তাঁর মন্তব্য স্পষ্টতই ট্রাস্টের কাজকর্ম এবং তার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু কিছু টেলিভিশন চ্যানেল ওই বক্তব্যকে অপ্রাসঙ্গিক ভাবে রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবে তুলে ধরছে।’
সব ঠিক থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভার রদবদল হওয়ার কথা। বর্তমানে মোদী মন্ত্রিসভায় ৬৯ জন রয়েছেন। আরও ১২ জন নতুন সদস্য যোগ দিতে পারবেন তাতে। বিজেপি সূত্রের মতে, আসন্ন একাধিক বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের কথা ভেবেই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন করা হবে। দু’বছর আগে যখন নরেন্দ্র মোদী তৃতীয় বার সরকার গড়েন, সেই সময়ে সরকারের ৬৫ শতাংশ মন্ত্রীর বয়স ছিল ৫০-৭০-এর মধ্যে। যন্তর মন্তরকাণ্ডের পরে স্বাভাবিক ভাবেই মন্ত্রিসভার গড় বয়স কমাতে তৎপর হবেন মোদী।
ধর্মেন্দ্র প্রধান ছাড়াও সম্প্রতি ইস্তফা দিয়েছেন রভনীত সিংহ বিট্টু ও জর্জ কুরিয়েন। তাঁদের জায়গায় নতুন মুখেরা যেমন আসবেন, তেমনই আগামী নভেম্বরে রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হবে পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী ও সামাজিক ন্যায় মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বি এল বর্মার। সূত্রের মতে, তাঁদেরও ফের রাজ্যসভায় পাঠানোর সম্ভাবনা কম। পরিবর্তে নতুন মুখ আনার পক্ষপাতী দল। সূত্রের খবর, তরুণ প্রজন্মকে বার্তা দিতে তুলনায় কম বয়সিদেরই এ বার মন্ত্রিসভায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। এর পাশাপাশি ভোটমুখী উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব কিংবা বিরোধী-শাসিত কর্নাটক ও হিমাচল প্রদেশের মতো রাজ্যগুলি থেকেও নতুন মুখেদের মন্ত্রিসভায় পাঠানোর কথা ভাবা হয়েছে।