তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করা রাজ্যসভার তিন সদস্যের দু’জন সুখেন্দুশেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বরাইককে ফের জিতিয়ে আনতে চলেছে বিজেপি। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, তৃতীয় আসনটিতেও তৃণমূলত্যাগী সুস্মিতা দেবকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। প্রথমে স্থির ছিল, সুস্মিতাকে অসমে লোকসভার উপনির্বাচনে দাঁড় করানো হবে। তবে রাজ্যসভায় তাঁকে ফেরত আনার সম্ভাবনা এখনও খারিজ হয়নি বলে জানা যাচ্ছে।
অন্য দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তিন জনের একজনও যদি বিজেপিতে যোগ দিয়ে লড়েন, তা হলে তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসাবে দাগিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ করা হবে। সূত্রের মতে, বিশেষ নিশানা হবেন সুখেন্দুশেখর রায়। আরজি কর কাণ্ডের পর মুখ খুলে এবং প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে দলের বিরাগভাজন হয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর। পরে স্বর কিছু নরম করে তিনি ফের রাজ্যসভায় তৃণমূলের কাজকর্মে অংশ নেন। সূত্রের খবর, সে সময় একটি চিঠি তিনি নেত্রীকে লিখেছিলেন। সেই চিঠি প্রকাশ্যে এনে তাঁকে নিশানা করতে পারে মমতা শিবির। তবে তার ‘পাল্টা’ উত্তর প্রবীণ সাংসদের হাতে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। সব মিলিয়ে এই তিন আসন নিয়ে ঢেউ ওঠারসম্ভাবনা যথেষ্ট।
বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব বলছেন, তিনটি আসনেই তাঁদের জয় নিশ্চিত। ২৪৫ আসনের রাজ্যসভায় সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে যে দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগে (১৬৪), এই তিনটি আসন পেলে এনডিএ-র শক্তি তার কাছাকাছি অর্থাৎ ১৫৫-তে চলে যাবে। আজ নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, ২৪ জুলাই এই তিনটি আসনে উপনির্বাচন। একই দিনে ফল ঘোষণাও হবে। মনোনয়ন জমা করার শেষ দিন ১৪ জুলাই এবং প্রত্যাহারের সময়সীমা ১৭ জুলাই।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে আজই সুখেন্দুশেখর পোস্ট করেছেন তাঁর বাবা শিবেন্দুশেখরকে লেখা শ্যামাপ্রসাদের একটি চিঠি। তিনি লিখেছেন, ‘ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বাংলার দুর্ভিক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য একাধিক ত্রাণশিবিরের আয়োজন করেছিলেন। ১৯৪৩ সালের ৫ অক্টোবর চিঠিতে তিনি জানান, মানুষের তৈরি ওই দুর্ভিক্ষে ত্রাণকাজের ব্যস্ততার কারণে তাঁকে আমার বাবার সঙ্গে উত্তরবঙ্গ সফর বাতিল করতে হয়েছে।’