গত বছর জুলাই মাসে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাহুল আর সিংহ অভিযোগ তুলেছিলেন, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময়ে চিন ভারত-পাকিস্তানের সামরিক সংঘাতকে নিজেদের সমরাস্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার রসায়নাগার বা ‘লাইভ ল্যাব’ হিসেবে কাজে লাগিয়েছিল। পাকিস্তানের মুখ সামনে ছিল। পিছন থেকে চিন পাকিস্তানকে সব রকম সাহায্য করছিল।
এখন আবার সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান চিনের ভূমিকাকে তেমন গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। তাঁর বক্তব্য, চিনের থেকে পাকিস্তান সমরাস্ত্র আমদানি করে। ফলে চিনের সমরাস্ত্র প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্মীদের বাধ্যবাধকতা থাকে সেই সমরাস্ত্রের দেখভালে সাহায্য করা। দু’দেশের মধ্যে চুক্তিতে সেই শর্ত থাকে। ফলে অপারেশন সিঁদুর-এর সময়ে পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে চিনাদের উপস্থিতি সেই প্রেক্ষিতেদেখা উচিত।
সামরিক বাহিনীর মধ্যে এই দু’রকম বক্তব্য উঠে আসায় কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছে, এর ফলে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত। কারণ সেনাবাহিনীর উপপ্রধান চিন-পাকিস্তানের আঁতাঁত নিয়ে উদ্বেগজনক কথাবার্তা বলেছিলেন। এখন আবার প্রাক্তন সিডিএস তার বিপরীত কথা বলছেন। কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের প্রশ্ন, “হচ্ছেটা কী? সরকারের ভাষ্য বদলানোর গভীর পরিকল্পনা চলছে?” তাঁর অভিযোগ, মোদী সরকার এমনিতেই পরিকল্পিত ভাবে চিনের সামনে আত্মসমর্পণ করে ফেলছে। মনে হচ্ছে, চিনের সম্পর্কে এই অবস্থানের পরিবর্তন তারই অঙ্গ।