আর দশ দিন বাদেই শুরু হয়ে যাবে পিতৃপক্ষ। ওই এক পক্ষ কালে কোনও শুভ কাজ বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া এড়িয়ে যেতে দেখা যায় বিজেপি নেতৃত্বকে। তাই পিতৃপক্ষের আগেই দু’দিনের বিশেষ অধিবেশন ডেকে সরকার লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিলটি পাশ করিয়ে নিতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজধানীর রাজনীতিতে। যে কারণে বাদল অধিবেশন শেষ হয়ে যাওয়ার প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পরেও অধিবেশন শেষের বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি কেন্দ্র।
যদিও বিরোধীরা বলছেন, সংবিধান সংশোধনকারী বিলটি পাশ করাতে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সাংসদ সংখ্যা নেই বলেই সরকার হাত গুটিয়ে রয়েছে। বিলটি নিয়ে দক্ষিণের দলগুলি বিশেষ করে ডিএমকে-র অবস্থান এখন সংশয়পূর্ণ। এক বার বিলটি সংসদে এনে পরাজিত হতে হয়েছে সরকারকে। তাই একশো শতাংশ নিশ্চিত না হয়ে এগোতে রাজি নন অমিত শাহেরা। যদিও দলের একাংশের মতে, সংখ্যার জট কাটার ক্ষেত্রে দক্ষিণ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। তাই আগামী ২২-২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দু’দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকার কথা ভাবা হচ্ছে। বিজেপির একটি অংশের দাবি, মহালয়ার পরেই নবরাত্রি শুরু হবে। আসন পুনর্বিন্যাস বিলের সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ বিলটি ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। তাই নবরাত্রির সময়েই নারী ক্ষমতায়নের বার্তা দিতে বিশেষ অধিবেশন ডাকা হোক। তবে যখনই ডাকা হোক না কেন, গোটাটাই নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় সংখ্যা হাতেথাকার উপরে।
অতীতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিরোধীদের ভয় দেখিয়ে সমর্থন জোগাড়ের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। কিন্তু গত এক মাসে যন্তর মন্তরে আন্দোলন, ছাত্র বিক্ষোভ, দিল্লিতে বাড়ি ভেঙে কলেজ পড়ুয়াদের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি তলানিতে। এর মধ্যে বিরোধীদের ভয় দেখিয়ে, দল ভাঙিয়ে বিল পাশের অভিযোগ উঠলে সেটা দলের বিপক্ষে যেতে পারে বলেই ধীরে চলো নীতি নিয়ে এগোনোর পক্ষপাতী বিজেপি।