বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলা বিলাসবহুল গাড়ি পিষে দিল ২৬ বছরের এক তরুণীকে। তাঁর মৃত্যু হয়। হায়দরাবাদের এই ঘটনায় অভিযুক্ত অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভার সাংসদ লিঙ্গামানেনি রমেশের পুত্র। ঘটনার সময় গাড়ির চালকের আসনে ছিলেন তিনিই। ঘটনাটি রবিবারের হলেও এখনও অভিযুক্ত গ্রেফতার হননি।
গত রবিবার (১৬ অগস্ট) হায়দরাবাদের মাধাপুর এলাকায় রাস্তা পেরোচ্ছিলেন ভারতী মুখী। ২৬ বছরের এই তরুণী ওই এলাকার একটি শপিং মলে কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন। ওই দিন দুপুরে এক সহকর্মীর সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজন করতে যাচ্ছিলেন তিনি। দুপুর ৩টে নাগাদ মধ্যাহ্নভোজন সেরে ফেরার পথে রাস্তা পেরোচ্ছিলেন ভারতী। সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহকর্মী পূজা অশোকও। সেই সময়েই তীব্র গতিতে ছুটে আসা একটি বিলাসবহুল গাড়ি ভারতীকে পিষে দিয়ে চলে যায়। অল্পের জন্য রক্ষা পান পূজা।
ঘটনার তদন্তে নেমে সাইবারাবাদ পুলিশ ২১ বছরের সঞ্জুশকে চিহ্নিত করে। সঞ্জুশের বাবা একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী তো বটেই, একই সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণের জনসেনা পার্টি (জেএসপি)-র রাজ্যসভা সাংসদ।
গাড়ি পিষে দিয়ে চলে যাওয়ার পরেই গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে জুবিলি হিল্স এলাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু মাথায় গভীর আঘাত থাকায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রচুর রক্তপাত হওয়ায় তাঁকে বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গেলেও ২১ বছর বয়সি সাংসদ-পুত্র এখনও গ্রেফতার হননি। পুলিশের এফআইআর-এ অবশ্য বলা হয়েছে, গাড়িটি তীব্র এবং বেপরোয়া গতিতে যাচ্ছিল। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা। কিন্তু এখনও অভিযুক্তকে কেন গ্রেফতার করা হয়নি, তার ব্যাখ্যা দিয়ে মাধাপুর পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার (এসিপি) সিএইচ শ্রীধর জানান, জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এই মামলায় সর্বোচ্চ সাজার মেয়াদ সাত বছরেরও কম। সেই কারণেই সাংসদ-পুত্রকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানান ওই পুলিশ আধিকারিক।