অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং সীমান্ত এলাকায় চিনা সেনার কার্যকলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল ছাত্র সংগঠন আপসু। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাতো বুইয়ের নেতৃত্বে একটি দল ১৩ অগস্ট ইটানগর থেকে তাকসিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবে। অভিযানের নাম রাখা হয়েছে ‘তাকসিং চলো, ভারত বাঁচাও’। ১৫ অগস্ট তাকসিংয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পরিকল্পনাও রয়েছে সংগঠনের। আপসু জানিয়েছে, প্রতিনিধি দলের মূল লক্ষ্য, সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং দুর্গম সীমান্ত গ্রামগুলির বাসিন্দাদের উদ্বেগ ও দাবি সকলের সামনেতুলে ধরা।
স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাসের মধ্যে চিনা সেনা প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা অতিক্রম করে পুকার লা এবং ওল্লো এলাকায় প্রবেশ করেছে। যদিও জেলা প্রশাসন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে এ নিয়ে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এর আগে, পিপলস্ পার্টি অব অরুণাচল তাকসিংয়ে চিনা অনুপ্রবেশের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি তথ্য-অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছিল। প্রাক্তন মন্ত্রী কাফা বেঙ্গিয়ার নেতৃত্বাধীন সেই কমিটির বক্তব্য, ২০২৩ থেকে তাকসিংয়ে ভারতীয় বাহিনীর নিয়মিত টহল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় নাহ ও মারা সম্প্রদায়ের শিকার ও ইয়াক পালনের এলাকা নাঙ্গা পাহাড়ও বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। তাদের রিপোর্টে বলা হয়েছে, সীমান্তে নিয়মিত টহলের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষত শীতকালে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ওই সব এলাকায় ভারতীয় বাহিনীর টহল ব্যাহত হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। সীমান্ত সড়ক নির্মাণ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি সিপি-২ এলাকায় হেলিপ্যাড এবং সিপি-৪ ও সিপি-৬ এলাকায় স্থায়ী সেনা ঘাঁটি তৈরি ও সীমান্ত এলাকায় বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করারও সুপারিশ করা হয়েছে পিপিএর রিপোর্টে।