ইতিহাসে মোগল, বিজ্ঞানে বিবর্তনবাদের পরে ফের ইতিহাস। এ বারে কোপ সুলতানি আমলে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরে ইতিহাসের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হল সুলতানি আমলের ইতিহাস। সূত্রের খবর, তৃতীয় সিমেস্টারের পরিমার্জিত পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়া ওই অংশে ছিল ত্রয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীতে উত্তর ভারতের শাসন ব্যবস্থা, রাজনৈতিক ক্ষমতা, প্রশাসনিক পরিকাঠামো, ধর্ম, সাংস্কৃতিক ইতিহাস এবং বিবর্তনের মতো বিষয়। বিজেপি জমানায় শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দেওয়ার এই প্রবণতায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকমহল এবং পড়ুয়াদের একাংশ। বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি।
চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় সিমেস্টারের পড়াশোনা শুরু হয়েছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ৭ অগস্ট নতুন পাঠ্যক্রম নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সূত্রের খবর, নয়া পাঠ্যক্রমটি ২০২৪ সালের স্নাতকোত্তর পাঠ্যক্রমের কাঠামো এবং জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর উপরে ভিত্তি করে বানানো হয়েছে।
নতুন পাঠ্যক্রমে মধ্যযুগীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার গঠন, রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামো এবং তৎকালীন উত্তর ভারতে কী ভাবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব পরিচালিত হত, তা বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতকে রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও এই বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তবে শুধুই সুলতানি আমলের ইতিহাস নয়, তৃতীয় সিমেস্টারের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়েছে আরও বেশ কিছু বিষয়। যার মধ্যে রয়েছে, ১৪০০-১৫৫০ খ্রিস্টাব্দ সময়কালে উত্তর ভারতের নারী এবং লিঙ্গব্যবস্থার মতো বিষয়ও।
এই ঘটনার পরে শিক্ষক এবং পড়ুয়াদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাদ যাওয়া সুলতানি আমল এবং উত্তর ভারতের ইতিহাস স্নাতক স্তরেও পড়ানো হয়ে থাকে। যদিও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এক অধ্যাপকের বক্তব্য, স্নাতকোত্তর স্তরের এই পেপারের সঙ্গে স্নাতক স্তরে পড়ানো দিল্লির সুলতানি আমলের ইতিহাসকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। কারণ, স্নাতক স্তরে মূলত ভারতের ইতিহাসের একটি সামগ্রিক পরিচয় দেওয়া হয়। কিন্তু স্নাতকোত্তর স্তরের ওই বাদ পড়া অংশ ছিল অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট, গবেষণাভিত্তিক এবং ঐতিহাসিক ও বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণের উপরে জোর দেওয়াএকটি বিষয়।
এর আগে ২০২৫ সালে এনসিইআরটি-র সপ্তম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের পাঠ্যক্রম থেকে বাদ পড়েছিল মোগল এবং সুলতানি আমলের গোটা অধ্যায়।