ভারতীয়দের ব্যক্তিগত তথ্য যে ডার্ক ওয়েবে লেনদেন হয় সেটা সকলেই জানেন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এক মামলার শুনানির সময়ে এমনই মন্তব্য করেছেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। বিচারপতি বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে সাইবার নিরাপত্তা গবেষক হিমাংশু পাঠক মামলাটি দায়ের করে দাবি করেছেন, বেসরকারি বিমা সংস্থা স্টার হেলথ অ্যান্ড অ্যালায়েড ইনশিয়োরেন্স কোম্পানির আওতায় থাকা গ্রাহকদের তথ্য সাইবার নিরাপত্তার দেওয়ার ভেদ করে বাইরে চলে আসছে। তিনি এই সংস্থার গ্রাহক। তাঁর নিজের এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। মাদ্রাজ হাই কোর্ট তাঁর আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পরে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
শুনানিতে স্টার হেলথের আইনজীবী এস মুরলীধর আশ্বস্ত করেন, ‘‘আমার মক্কেলের তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ। আপনি জেনে আশ্চর্য হবেন, অন্তত তিন-চারটি নিরাপত্তা দেওয়ালের মাধ্যমে তা সুরক্ষিত।’’ এই সময়েই বিচারপতি বাগচি বলেন, ‘‘কিন্তু এ তো সর্বজনবিদিত যে, ডার্ক ওয়েবে ভারতীয়দের তথ্য কেনাবেচা হচ্ছে।’’ এই প্রেক্ষিতে মুরলীধরের বক্তব্য, ‘‘ডার্ক ওয়েব এমন একটি ব্যাপার, যার নিয়ন্ত্রণ কারও হাতে থাকে না। তার মানে এই নয় যে আমরা এর অংশীদার।’’ আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ অতীতে তথ্য ফাঁসের ঘটনা মনে করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘‘এ বার সংস্থার এক কর্মী গ্রাহকদের তথ্য বাইরে বার হতে সাহায্য করছেন। মামলাকারী নিজে সরকারি কর্মচারী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সকলের তথ্য পাঠাতে পারেন। এই ধরনের সংস্থাকে কী ভাবে তদন্ত ছাড়া ছেড়ে দেওয়া যায়?’’ বিচারপতি বাগচির অবশ্য বক্তব্য, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রমাণ করতে নিজে তথ্য বার হতে সাহায্য করা নৈতিক কাজ নয়। এই প্রসঙ্গে ভূষণ মত দেন, বিষয়টি গুরুতর। হিমাংশুকে মামলার অংশীদার করার প্রয়োজন নেই। আদালত বান্ধব নিয়োগ করে তদন্ত করে দেখা হোক। আগামী ৭ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানি। সংবাদ সংস্থা