বন্দে মাতরমের ছয় স্তবক গাওয়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট।
বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাওয়া ও বাজানোর জন্য বন্দে মাতরমের ছয় স্তবক নির্ধারণ করে দিয়ে ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি ও ৯ জুলাই নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। একে চ্যালেঞ্জ করে করা দু’টি আবেদনের ভিত্তিতে আজ কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত। প্রথম আবেদনটি করেছেন অম্বেডকরপন্থী কর্মী ও সারা ভারত অনগ্রসর ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কর্মচারী ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি বিডি বোরকার। অন্য আবেদনটি প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক সত্যভামা মাভোজির। আবেদনগুলি শীর্ষ আদালতে আসার পরই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চআজ কেন্দ্রীয় সরকারকে নোটিসজারি করেছে।
আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, বন্দে মাতরম্ গানটির ছয়টি স্তবক গাওয়ার নির্দেশ ধর্মনিরপেক্ষতা ও সৌভ্রাতৃত্বের ভাবনার বিরোধী। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বোরকার তাঁর আবেদনে বলেছেন, একটি নির্দিষ্ট ধর্মের বিশেষ দেবদেবীদের আহ্বানকে জাতীয় গান হিসেবে চাপিয়ে দিলে তা ভারতের রাষ্ট্র ব্যবস্থার ‘ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্র’-এর চরিত্রকে পাল্টে ধর্মতন্ত্রে রূপান্তরিত করে। তাঁর মতে, এই ধরনের চাপিয়ে দেওয়া পদক্ষেপ আবেদনকারীর ধর্ম (বৌদ্ধ ধর্ম)-সহ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুভূতিতে আঘাত করছে এবং ভারতের সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও সংঘাতের পথকে প্রশস্ত করছে। এই পদক্ষেপ ‘সংবিধানের মূল কাঠামোর ভ্রাতৃত্ব ও ধর্মনিরপেক্ষতার মতো বৈশিষ্ট্যগুলিকে উপহাস করে’ বলেও আবেদনকারীর তরফে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনকারীদের মতে, শুরুতে বন্দে মাতরমের দু’টি স্তবক গাওয়ার নির্দেশ ছিল, যেখানে মাতৃভূমির সৌন্দর্যের বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত চারটি স্তবকে হিন্দু দেবী দুর্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে আহ্বান করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ছয়টি স্তবক গ্রহণ করার বিরোধী ছিলেন এবং দু’টি স্তবক গাওয়ার বিষয়টি রবীন্দ্রনাথের প্রস্তাব অনুযায়ী গৃহীত হয়েছিল।