E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

যন্তর মন্তর বাদ কেন,জবাব চাইল শীর্ষ কোর্ট

এর আগে ১৩ অক্টোবর দিল্লি হাই কোর্টের মামলায় দিল্লি পুলিশ বলেছিল, সুপ্রিম কোর্টের ৯ অক্টোবরের নির্দেশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০২
প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদস্থল হিসেবে দিল্লির যন্তর মন্তরকে বাদ দেওয়ার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার, তার বিরোধিতা করে মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। বৃহস্পতিবার সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের জবাব তলব করেছে।

এর আগে ১৩ অক্টোবর দিল্লি হাই কোর্টের মামলায় দিল্লি পুলিশ বলেছিল, সুপ্রিম কোর্টের ৯ অক্টোবরের নির্দেশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ দিন সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কিন্তু বলেছেন, এই সিদ্ধান্তের ভিত্তি ‘‘আদালতের রায় নয়।’’ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এ দিন সরাসরি প্রশ্ন করে, ‘‘আদালতের কিছু মৌখিক মন্তব্যের কারণেই কি এই স্থানটিকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে? না কি এই জায়গাটা এবং সাধারণ প্রতিবাদস্থল হিসেবে এর উপযোগিতা নিয়ে যথাযথ বিচার-বিবেচনা করা হয়েছিল?’’ তারই জবাবে মেহতা বলেন, আদালতের কথার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত হয়নি। অনেক আগেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং সেই কমিটি একটি সবিস্তার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

কমিটি-রিপোর্ট মোতাবেকই সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আবেদনকারীদের দাবি, যন্তর মন্তরকে অবিলম্বে প্রতিবাদস্থল হিসেবে ফেরাতে হবে। প্রবীণ আইনজীবী মুক্তা গুপ্ত নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করার মৌলিক অধিকারের উপরে জোর দেন। তিনি বলেন, ‘‘নাগরিকদের প্রতিবাদ করার মৌলিক অধিকারকে খর্ব করা যায় না। ‘মজদুর কিষান শক্তি সংগঠন’ মামলায় এই আদালতই আগে রায় দিয়েছে যে, প্রতিবাদের স্থান এমন জায়গায় হতে হবে প্রতিবাদের কণ্ঠ যেখান থেকেশোনা যাবে।’’

বিচারপতি বাগচী এর উত্তরে বলেন, ‘‘আমরা নোটিস জারি করছি। আমরা জবাব চাইছি। জবাব পেয়ে যদি সন্তুষ্ট না হই, তবে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। আপনারা ‘মজদুর কিষান শক্তি সংগঠন’ মামলার রায়ের উপর ভিত্তি করে যুক্তি দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, আপনারা উল্লেখ করেছেন যে যন্তর মন্তর দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত। তাই প্রতিবাদস্থলকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া উচিত নয়। আমরা সরকারের কাছে এ বিষয়ে জবাব চাইছি।’’ প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তও বলেন, ‘‘আমরা আপনাদের যুক্তিগুলো শুনতে চেয়েছি, তার আগে আমরাও আমাদের প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা বিষয়গুলো জানি। এটা নিয়ে বিবেচনা করা দরকার আছে। সেই কারণেই আমরা নোটিসজারি করছি।’’

প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন সু্প্রিম কোর্টের ৯ অক্টোবরের মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, আজই যন্তর মন্তরকে পুনরায় প্রতিবাদের স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হোক। আদালতের নির্দেশের দোহাই দিয়ে এটিকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত ৯ অক্টোবর এমন একটি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল যে, যন্তর মন্তরকে প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।’’ বাস্তবিকই যন্তর মন্তরের বিকল্প ভাবার কথা প্রধান বিচারপতির বেঞ্চই ৯ তারিখ পুলিশকে বলেছিল। আরও বড় জায়গা এবং নাগরিক পরিষেবার সুযোগসুবিধা সমেত কোনও জায়গা খোঁজার কথা আদালত বলেছিল। আজ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বলল, ‘‘আমরা নোটিস জারি করছি। সংশ্লিষ্ট পক্ষ আসুক, তাদের জবাব দাখিল করুক। আমরা দেখব এর পিছনে কী কারণ রয়েছে।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Supreme Court of India

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy