দেশের কর্পোরেট জগতের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ আইনি বিবাদে আপাত ভাবে দাঁড়ি পড়ল। পিয়ারলেসে সিংহভাগ মালিকানা কার হাতে থাকবে, এ নিয়ে আইনি বিবাদে পিয়ারলেস জেনারেল ফিনান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির পক্ষে রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। ভগবতী ডেভেলপার্স সংস্থার আর্জি খারিজ করে দিয়ে দেশের শীর্ষ আদালত জাতীয় কোম্পানি আইন আপিল ট্রাইবুনালের রায়ে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হল না।
এই আইনি বিবাদের সূত্রপাত ১৯৮৭-৮৮ সালে। সে সময় পিয়ারলেস পুঁজির ভিত মজবুত করতে ৩০ হাজার শেয়ার ছেড়েছিল। তাতে পিয়ারলেসের পরিচালন বোর্ড ও শেয়ারের মালিকদের অনুমোদন ছিল। একই সময়ে পিয়ারলেসের সে সময়ের শেয়ারের মালিকরা ১৫,৬২৬ শেয়ার লেনদেন করেন। এই শেয়ার লেনদেন নিয়ে পরে অভিযোগ ওঠে যে পিয়ারলেসের নিয়ন্ত্রণের চরিত্র বদলের লক্ষ্যে তা করা হয়েছে। আইনি বিবাদে পিয়ারলেসের প্রতিষ্ঠাতা ডিরেক্টর, প্রথম দিকের লগ্নিকারী পরসমল লোঢা এই অভিযোগকে সমর্থন করেন। ২০২২-এ জাতীয় কোম্পানি আইন ট্রাইবুনালের কলকাতা বেঞ্চ রায় দেয়। তার বিরুদ্ধে পিয়ারলেস আপিল ট্রাইবুনালে গিয়েছিল। গত এপ্রিলে আপিল ট্রাইবুনাল বলেছিল, ওই শেয়ার লেনদেন আইনসঙ্গত ছিল। এর বিরুদ্ধে ভগবতী ডেভেলপার্স (আগে যার নাম ছিল লোঢা সার্ভিসেস) সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিল।
মঙ্গলবার বিচারপতি পি এস নরসিমহা ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চে পিয়ারলেসের হয়ে সওয়াল করেন হরিশ সালভে, অরুণাভ দেব, আশিকা ডাগা। ভগবতী ডেভেলপার্সের হয়ে সওয়াল করেন গোপাল সুব্রমণিয়ম। সুপ্রিম কোর্ট ভগবতী ডেভেলপার্সের আর্জি খারিজ করে দেওয়ায় পিয়ারলেস জেনারেল ফিনান্স ও ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়ন্ত রায় বলেন, ‘‘তিন দশকের বেশি সময় পরে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে পিয়ারলেসের ইতিহাসের একটি অধ্যায় শেষ হল। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নেওয়া সিদ্ধান্ত যে সঠিক বলে স্বীকৃতি পেয়েছে, তাতে আমরা কৃতজ্ঞ।’’
পিয়ারলেসের আইনজীবী অরুণাভ দেব বলেন, ‘‘সাড়ে তিন দশক আগে নেওয়া কিছু কর্পোরেট সিদ্ধান্তকে ঘিরে যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছিল, আজ তার অবসান হল। এত দীর্ঘ সময় পেরিয়েও পিয়ারলেস তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি। সুপ্রিম কোর্টের আজকের সিদ্ধান্ত সেই আস্থারই স্বীকৃতি।’’